শিরোনাম
মাদক পরিবহনে ‘নিরাপদ রুট’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া! লিটারে ৫ টাকা বাড়ল বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রধানমন্ত্রী বুদ্ধিমান, ভারত সফরের সিদ্ধান্ত তার ওপর নির্ভর করছে: হাইকমিশনার ত্রিবেদী মালিক সেজে ভাড়ার মাইক্রোবাস বিক্রির অভিযোগ, প্রতারক গ্রেপ্তার বেতন বাড়ায় সরকারি চাকরিজীবীরা খুশি হলেও ব্যয় বাড়ার শঙ্কায় বেসরকারিরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন ‘যারা মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করবে, তারাই বিএনপিতে থাকবে’ সরাইলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিতাস নদীতে পোনামাছ অবমুক্তকরণ মন্ত্রিসভায় নবম পে স্কেল প্রস্তাব অনুমোদন আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ ও জিয়া সার কারখানা নামকরণের দাবিতে বিক্ষোভ

মাদক পরিবহনে ‘নিরাপদ রুট’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া!

নিজস্ব প্রতিবেদক   প্রিন্ট
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬   সর্বশেষ আপডেট : 7:19 pm

মাদক পরিবহনে ‘নিরাপদ রুট’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। গ্রাম থেকে শহর- সবখানেই মাদকের ছড়াছড়ি। ভৌগলিক অবস্থান আর ভারতের সীমান্তবর্তী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। মাদক বেচাকেনার পাশাপাশি পরিবহনেও ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে ‘নিরাপদ রুট’ হিসেবে ব্যবহার করছে চোরকারবারিরা। পুলিশ ও বিজিবির নিয়মিত অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না মাদকের কারবার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মবাড়িয়ার আখাউড়া, কসবা ও বিজয়নগর উপজেলার প্রায় ৭৩ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে ভারতের সঙ্গে। এ সব সীমান্ত দিয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মাদকদ্রব্য ও চোরাই পণ্য ঢুকছে বাংলাদেশে। মাদকের মধ্যে রয়েছে ইযাবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, মদ ও বিয়ার। এছাড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা হচ্ছে ভারতীয় প্রসাধনী, খাদ্যসামগ্রী, জিরা, চশমাসহ বিভিন্ন পণ্য।
কয়েক হাত বদলে সহজেই মাদক পৌঁছে যাচ্ছে ঢাকায়। এরপর সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের নানা প্রান্তে। মূলত সড়ক ও রেলপথে ঢাকার দূরত্ব কম হওয়ায় সীমান্ত দিয়ে মাদক আনার পর তা দ্রুত সময়ের সময়ের মধ্যে ঢাকায় পরিবহন করা যায়। সীমান্ত থেকে কয়েক হাত বদলে সহজেই মাদক পৌঁছে যাচ্ছে গন্তব্যে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার একাংশ ও বিজয়নগর এবং হবিগঞ্জের মাধবপুর সীমান্ত থেকে গত ১লা জানুয়ারি থেকে গত ১৯ আগস্ট পর্যন্ত ৩ কোটি ৩১ লাখ ৮১ হাজার ৬০০ টাকার বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে বিজিবির ২৫ ব্যাটালিয়ন। একই সময়ে উদ্ধার হয়েছে ৫৯ কোটি ৭৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার বিভিন্ন চোরাই পণ্য।
ভারত থেকে মাদকদ্রব্য ও চোরাই পণ্য আনতে ব্যবহার করা হয় সীমন্তবর্তী বাসিন্দাদের। কমংস্থান না থাকায় সীমান্তের বেকার তরুণরা চোরাকারবারিদের ফাঁদে পা দিয়ে জড়াচ্ছে মাদক ও চোরাই পণ্য পরিবহনে। তাদের মাধ্যমে কয়েক হত বদলে সড়ক ও রেলপথে মাদক-চোরাই পণ্য পৌঁছে যায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তে। ফলে বিজিবি ও পুলিশের নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না মাদক চোরাচালান।
তবে মাদকের সহজলভ্যতার কারণে সমাজে অপরাধের হার বাড়ছে। মাদক সেবনের টাকা যোগাড়ে বাসাবাড়িতে চুরি এবং ছিনতাইয়ে মতো অপরাধে জড়াচ্ছে মাদকাসক্তরা। এছাড়া পারিবারিক সহিংসতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবেও মাদক বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।
জেলা নাগরিক ফোরামের সহসভাপতি নীহার রঞ্জন সরকার বলেন, মাদকের ভয়াবহতা একটি স্বচ্ছল পরিবারকে নি:স্ব করে দেয় এবং একপর্যায়ে মাদকাসক্তরা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। মাদক নিয়ে সরকারের অবস্থানে আমরা খুশি, তবে জিরো টলারেন্স বাস্তবায়ন দেখতে চাই। মাদকমুক্ত দেশ গঠন করতে না পারলে আমাদের আরো ভালো অর্জনগুলো কোনো কাজে আসবে না।
২৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ বলেন, মাদক ও অবৈধ পণ্য চোরাচালান প্রতিরোধে ২৫ বিজিবির সদস্যরা সর্বদা সীমান্তে সতর্কাবস্থায় আছে। যার কারণে নিয়মিত অভিয়ানে মাদক ও চোরাই পণ্য ধরা পড়ছে। চোরাকারবারিরা বিভিন্ন প্রলোভনে সীমান্তের তরুণদের দিয়ে মাদক ও চোরাই পণ্য পরিবহন করাচ্ছে। এজন্য সীমান্তের বসিন্দাদের নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা করছে বিজিবি।

Facebook Comments Box

Posted ৭:১৯ পিএম | বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

The Daily Sarod |