https://www.jac-recruitment.sg/?source=google.com

আখাউড়া স্থলবন্দরে আশানুরূপ বাড়েনি রপ্তানি আয়, কমেছে রাজস্বও

নিজস্ব প্রতিবেদক   প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬   সর্বশেষ আপডেট : 10:37 pm

আখাউড়া স্থলবন্দরে আশানুরূপ বাড়েনি রপ্তানি আয়, কমেছে রাজস্বও

সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানি আয় বেড়েছে মাত্র ৯ কোটি ৬৮ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৯ টাকা। এছাড়া অনিয়মিত পণ্য আমদানির কারণে রাজস্ব আয়ও কমেছে। মূলত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে বাংলাদেশ থেকে উচ্চ চাহিদা সম্পন্ন বেশ কয়েকটি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার- যার প্রভাব পড়ে আখাউড়া স্থলবন্দরের রপ্তানি বাণিজ্যে। এর ফলে সামগ্রিকভাবে বন্দরের রপ্তানি আয় আশানুরূপ বাড়েনি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য চলছে। আমদানির চেয়ে রপ্তানি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় রপ্তানিমুখী বন্দর হিসেবে বিবেচিত হয় আখাউড়া স্থলবন্দর। প্রতিদিন হিমায়িত মাছ, রড, সিমেন্ট, ভোজ্য তেলসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হয় ভারতে। যদিও বন্দরের সূচনালগ্নে রপ্তানি পণ্যের তালিকা দীর্ঘ ছিল। বর্তমানে রপ্তানি হওয়া পণ্যের প্রায় অর্ধেকই হিমায়িত মাছ। রপ্তানিকৃত পণ্য ত্রিপুরার আগরতলা স্থলবন্দর হয়ে সরবরাহ করা হয় দেশটির উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলোতে।
তবে ব্যবসায়ীদের অনীহায় গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কোনো পণ্যই আমদানি হয়নি। যার কারণে স্বাভাবিকভাবেই রাজস্ব আয় কমেছে।
পণ্য আমদানি অনিয়মিত হওয়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে যেসব পণ্য আমদানির অনুমতি রয়েছে- তার অধিকাংশই ত্রিপুরার বাইরের রাজ্য থেকে আনতে হয়। যার ফলে আমদানি খরচ মিটিয়ে কাঙ্খিত মুনাফা করা যায় না।
আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি হয়েছে ৫২৪ কোটি ২ লাখ ৮৯ হাজার ২৩৮ টাকার পণ্য। রপ্তানি পণ্যের তালিকায় ছিল হিমায়িত মাছ, সিমেন্ট, শুটকি, আটা-ময়দা ও ভোজ্য তেলসহ কয়েকটি পণ্য। আর বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৫১৪ কোটি ৩৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৯ টাকার পণ্য।
আর ২০২৫-২৬ অর্থছরে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪০ টাকার চাল, আগরবাতি ও জিরা। এ থেকে সরকারের রাজস্ব এসেছে ৭১ লাখ ৩২ হাজার ৫৯৩ টাকা। আর বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ৭ কোটি ৩১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫৯ টাকার জিরা, ডাল ও কাজু বাদাম। ওই অর্থবছরে আমদানি পণ্য থেকে রাজস্ব আসে ৪ কোটি ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৯ টাকা।
মূলত, ২০২৫ সালের ১৭ মে স্থলবন্দরগুলো দিয়ে বাংলাদেশ থেকে বেশ কয়েকটি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার। এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও এখনও পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়নি। যার ফলে আখাউড়া স্থলবন্দরে পণ্য রপ্তানি কমেছে।
আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক রাজীব উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, ভারতের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা প্লাস্টিক, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফলের স্বাদযুক্ত জুস, পিভিসি সামগ্রী এবং তুলার মতো উচ্চ চাহিদা সম্পন্ন পণ্যগুলো রপ্তানি না করতে করতে পারায় বন্দরের রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মূলত, হিমায়িত মাছের পর সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হতো প্লাস্টিক, প্রক্রিয়াজত খাবার ও পিভিসি সামগ্রী।
বন্দরের আরেক ব্যবসায়ী মো. নাসির উদ্দিন জানান, পণ্য আমদানি বাড়াতে হলে স্থানীয় বাজারে যখন যে পণ্যের চাহিদা তৈরি হবে- সেই পণ্য আমদানির জন্য বন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি দিতে হবে। অন্যথায় পণ্য আমদানি বাড়া বা নিয়মিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ দিনের পর দিন লোকাসান দিয়ে কেউ পণ্য আমদানি করবে না।
আখাউড়া স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি নিছার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে যে টানাপোড়েন ছিল- তা এখন অনেকটাই কেটে গেছে। তবে আমরা আশা করেছিলাম নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত আমদানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। কিন্তু সেটি না করায় এবার আমাদের রপ্তানি আয় আশানুরূপভাবে বাড়েনি। আমাদের দাবি থাকবে দুইদেশের সরকার আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত নিষেধাজ্ঞাটি প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করবেন।
এ বিষয়ে আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার শেখ শাহির আহমেদ জানান, পণ্য আমদানি অনিয়মিত হওয়ার কারণে রাজস্ব আয় কিছুটা কমেছে। তবে আমদানি-রপ্তানি বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ীদর সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকে শুল্ক কর্তৃপক্ষ। আর ব্যবসায়ীদের সকল পণ্য আমদানির অনুমতি দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

Facebook Comments Box

Posted ১০:৩৭ পিএম | মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

dainiksarod |