নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : 10:39 pm
যে বয়সে একটি শিশুর পৃথিবী মানেই মায়ের বুকের উষ্ণতা, মমতার স্পর্শ আর নিরাপদ আশ্রয়, সেই বয়সেই হাসপাতালের শয্যায় একা দিন কাটছে সাত মাসের এক শিশুর। ছোট্ট দুটি হাত যেন এখনও কাউকে খুঁজে ফেরে। তার নিষ্পাপ চোখে যেন একটাই প্রশ্ন—”আমার অপরাধটা কী ছিল?”
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার খরমপুর কেল্লা বাবা (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে গত ২৩ জুলাই অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় শিশুটিকে। দীর্ঘ সময় ধরে কান্নাকাটি করলেও তার পাশে ছিলেন না কোনো স্বজন। পরে স্থানীয় লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা বিভাগকে খবর দেন।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে।
আখাউড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নরুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সে সুস্থ রয়েছে। তার জন্য উপযুক্ত ও সচ্ছল অভিভাবক খুঁজে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দায়িত্ব হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে শিশুটি নিরাপদ ও ভালো পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে।
হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সরা জানান, শিশুটির প্রতি সবার মায়া জন্মেছে। তারা নিজেদের সন্তানের মতোই তাকে যত্নে রাখছেন। এরই মধ্যে অনেক ব্যক্তি শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একটি নিষ্পাপ শিশুকে এভাবে পরিত্যাগ করার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও বেদনা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই বলছেন, কোনো পরিস্থিতিই একটি শিশুকে এভাবে ফেলে যাওয়ার মতো নির্মম সিদ্ধান্তকে সমর্থন করতে পারে না।
তবে এই বেদনাদায়ক ঘটনার মধ্যেও মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা প্রশাসন, সমাজসেবা বিভাগ, হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্স এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আন্তরিকতা ও সেবায় শিশুটি এখন নিরাপদে রয়েছে।
এখন সবার একটাই প্রার্থনা—শিশুটি যেন দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে এবং এমন একটি পরিবার খুঁজে পায়, যেখানে ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও স্নেহের অভাব হবে না। কারণ পৃথিবীর প্রতিটি শিশুরই অধিকার আছে একটি নিরাপদ শৈশব, একটি আপন ঠিকানা এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
Posted ১০:৩৯ পিএম | বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
The Daily Sarod | Pijush Kanti Acharya