অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : 10:10 pm
‘কালো ধোঁয়া আর নয়, হেঁটেই করব দূরত্ব জয়’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের সর্বদক্ষিণের টেকনাফ থেকে সর্বউত্তরের তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ ফাহিম মুনতাসির। পরিবেশ সংরক্ষণ, সুস্থ জীবনযাপন এবং হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলার বার্তা ছড়িয়ে দিতে ২০ দিনের এই পদযাত্রা সম্পন্ন করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে পৌঁছে তার এই ব্যতিক্রমী যাত্রার সমাপ্তি ঘটে।
২৬ বছর বয়সী ফাহিম মুনতাসির ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা। তিনি মো. মফিজ মিয়া ও মাহমুদা আক্তার চৌধুরী দম্পতির বড় ছেলে। ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে বর্তমানে শিক্ষকতা করছেন। পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ‘সোনালী সকাল’-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
পদযাত্রার অভিজ্ঞতা জানাতে বৃহস্পতিবার দুপুরে মুঠোফোনে ফাহিম বলেন, “শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোই আমার লক্ষ্য ছিল না। পথে পথে মানুষের সঙ্গে পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষার বিষয়ে কথা বলেছি। মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরে খুব ভালো লাগছে।”
তিনি বলেন, যাত্রাপথে বন্যপ্রাণী নিধনের নানা তথ্যও তার সামনে এসেছে। “হাতির দাঁতের জন্য নির্বিচারে হাতি হত্যা করা হচ্ছে। যেখানে সাপ থাকার কথা, সেখানে সাপ নেই। লোকালয়ে উঠে এলেই সাপ মেরে ফেলা হচ্ছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এসব বিষয়ে মানুষের সচেতন হওয়া জরুরি।”
গত ১০ জুলাই টেকনাফের শাপলা জিরো পয়েন্ট থেকে পদযাত্রা শুরু করেন ফাহিম। শুরুতে তার সঙ্গে আরও দুইজন সহযাত্রী ছিলেন। তবে ফেনী পর্যন্ত যাওয়ার পর তারা ফিরে যান। এরপর একাই পুরো পথ অতিক্রম করেন তিনি।
যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ ও বীজ বপনের কাজও করেছেন ফাহিম। তিনি বলেন, “এই পদযাত্রা কোনো রেকর্ড গড়া বা প্রচারণার জন্য নয়। এটি সুস্থ জীবন, হাঁটার অভ্যাস এবং পরিবেশ সচেতনতার একটি ছোট্ট আহ্বান।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যত কম হাঁটছি, ততই বাড়ছে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি। অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার বাড়াচ্ছে বায়ুদূষণ ও জলবায়ু সংকট। তাই অল্প দূরত্বে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং প্রয়োজন হলে গণপরিবহন ব্যবহার করা উচিত। মানুষ আমাকে নয়, আমার বার্তাটিকে মনে রাখুক—হাঁটা সুস্থ জীবনের ভিত্তি, আর পরিবেশ রক্ষা আমাদের সবার দায়িত্ব।”
তরুণদের উদ্দেশে ফাহিম বলেন, পরিবেশ রক্ষার কাজ বড় কোনো আয়োজন দিয়েই শুরু করতে হবে—এমন নয়। প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তের মাধ্যমেও বড় পরিবর্তন সম্ভব। এই পদযাত্রায় পথে বিভিন্ন বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের বাড়িতে রাতযাপন করে তিনি যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন।
ফাহিমের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন তার বন্ধু মুহয়ি শারদ। তিনি বলেন, “ফাহিমকে যারা চেনে, তারা জানে মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোই তার সবচেয়ে বড় আনন্দ। পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে তার এই সাহসী ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শারদ লিখেছেন, পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে যখন অনেকেই শুধু আলোচনা ও প্রচারণায় ব্যস্ত, তখন বাস্তব উদ্যোগ নিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে হেঁটে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেছেন ফাহিম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ফাহিমের এই বার্তা দেশের মানুষের মধ্যে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের অনুপ্রেরণা জোগাবে।
Posted ১০:১০ পিএম | বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
The Daily Sarod | Pijush Kanti Acharya