কিভাবে বাঁচবেন সাপের কামড় থেকে

ডেস্ক রিপোর্ট   প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ০১ অক্টোবর ২০১৯   সর্বশেষ আপডেট : 8:34 pm

কিভাবে বাঁচবেন সাপের কামড় থেকে

সাপ মানেই মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নাম। সাপের কামড়ে অনেকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। গল্প কিংবা সিনেমায় এই সাপকে এভাবে উপস্থাপন করায় তাদের সম্পর্কে মানুষের ‘ভ্রান্ত’ ধারণা তৈরি হয়েছে। গবেষকেরা বলেন, মানুষ যতটা ভাবে সাপ আসলে ততটা আক্রমণাত্মক প্রাণী নয়। বিষধর সাপ তো সহজে কাউকে কামড়াতেই চায় না।

তবু কখনো কখনো এই সাপের কামড়ে মানুষের মৃত্যু হয়। তাই যে এলাকায় এদের বিচরণ বেশি, সেই সব এলাকায় কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। এমনই কয়েকটি উপায়ের কথা জানিয়েছে পপুলার সায়েন্স ওয়েবসাইট।

দূরত্ব বজায় রাখা: প্রজনন ঋতুতে সাপের থেকে বেশি সতর্ক থাকতে হয়। যারা খেতখামারে কাজ করেন, তারা হাত এবং পা ফেলার সময় লক্ষ্য রাখবেন। সাপ দেখলে ভয়ে অনেকে সামনের দিকে দৌড় দেন। সেটি বিপজ্জনক হতে পারে। সাপকে অতিক্রম করতে যাবেন না।

দেখামাত্র কমপক্ষে দুই পা পিছিয়ে আসুন।

সাপ সাধারণত দূরবর্তী মানুষকে কামড়াতে পারে না। সেই চেষ্টা তারা করেও না।

অধিকাংশ সাপ তাদের শরীরের অর্ধেক দূরের বস্তুকে আক্রমণ করতে পারে। তারা কামড়ানোর থেকে দ্রুত চলে যেতেই বেশি পছন্দ করে। তাই তার দিকে না গিয়ে অপেক্ষা করুন। চলে যেতে দিন।

বিরক্ত করবেন না: পপুলার সায়েন্সের প্রতিবেদনে একটি গবেষণার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সাপ মেয়েদের কম কামড়ায়। সাপের কামড়ে হাসপাতালে যাওয়াদের মধ্যে ৮০ শতাংশই বালক কিংবা পুরুষ।

সাপ নারীদের ভয় পায়, বিষয়টি কিন্তু মোটেও তা নয়। কারণ হল ছেলেরা সাপকে বেশি বিরক্ত করে।

শরীর ঢেকে রাখুন: যেসব এলাকায় সাপের চলাফেরা বেশি সেখানে কাজ করার সময় হাত-পা ঢেকে রাখুন। এ জন্য ভারী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দরকার নেই। কেডস পরতে পারেন, লম্বা প্যান্ট থাকবে। হাতে থাকবে গ্লাভস।

কামড় খেলে কী করবেন: সব রকম সাবধানতার পরও কামড় খেয়ে বসলে শুরুতে সাপটি দেখার চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে ফোনে ছবি তুলে রাখতে পারেন। এটি করতে পারলে ডাক্তার সহজে সাপটি চিনতে পারবেন।

এসব করতে গিয়ে আবার বেশি সময় নষ্ট করবেন না। সাপ দেখতে পারলে ভালো, না পারলেও সমস্যা নেই। কামড় দেখে ডাক্তার বুঝবেন কী ধরনের সাপ।

গ্রামাঞ্চলে প্রায় সব মানুষ হাসপাতালে না গিয়ে ওঝা ডাকেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানিয়েছে, সাপে কামড়ানোর পর বাংলাদেশের ৮৬ শতাংশ মানুষ ওঝার কাছে যায়। চিকিৎসকের কাছে যায় মাত্র ৩ শতাংশ!

মনে রাখবেন, সত্যিকারের বিষাক্ত সাপে কামড়ালে ওঝায় কাজ হয় না। তাই হাসপাতাল যাওয়ার বিকল্প নেই। এখন দেশের প্রতিটি উপজেলায় সাপেকাটা রোগীদের জন্য বিশেষ ওষুধ থাকে। এগুলোকে অ্যান্টিভেনম বলা হয়।

হাসপাতালে রওনা হতে হতে ফোন দিয়ে তাদের জানিয়ে রাখুন। যাতে তারা আগেই আপনার চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে।

Facebook Comments Box

Posted ৮:৩৪ পিএম | মঙ্গলবার, ০১ অক্টোবর ২০১৯

The Daily Sarod |