নাসিরনগর উপজেলা প্রতিনিধি
প্রিন্ট
বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৮ অপরাহ্ণ

নাসিরনগর উপজেলার হরিণবের হতে ফান্দাউক পর্যন্ত ১৮০০ মিটার রাস্তা সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে টেন্ডার হলেও কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ৩ বছরেও কাজ শেষ হয়নি।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রাস্তাটির ৪০ শতাংশ কাজ করে ৯০ শতাংশ বিল তুলে লাপাত্তা দীর্ঘদিন ধরে। রাস্তাটি না হওয়ায় দুর্ভোগের পড়েছে তিনটি ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ।
নাসিরনগর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্প (CCB) এর আওতায় হরিণবের থেকে ফান্দাউক পর্যন্ত ১৮০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩.৭ মিটার প্রস্থ রাস্তার ব্যয় ধরা হয়েছিল সাড়ে আট কোটি টাকা। রাস্তাটির দরদাতা হিসাবে কাজ পাই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হাসান এন্টারপ্রাইজ। যার স্বত্বাধিকার খাইরুল হাসান। এই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাজের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
২০২৩ থেকে ২০২৪ অর্থ বছরে সড়কটি নির্মাণের সময় নির্ধারণ করা হয়। সাড়ে ৮ কোটি টাকার কাজের এরমধ্যে ঠিকাদার নামে মাত্র ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার কাজ করেছে। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বিল তুলে নিয়েছে ৭ কোটি ২১ লক্ষ টাকা। কাজের চেয়ে অতিরিক্ত বিল নিয়েছে ৩ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা। এরপর রাস্তাটি নির্মাণের সময় বাড়ানো হলেও ঠিকাদার আর কাজে আসছে না।
স্থানীয় লোকজনের দাবি ঠিকাদার সড়কের ৩০ শতাংশ কাজও শেষ করিনি এর মধ্যে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ ঠিকাদার ৯০% কাজের বিল দিয়ে দিয়েছেন। এ কারণে ঠিকাদার আর কাজে আসছে না। সাবেক উপজেলা প্রকৌশলী ও জেলা এলজিইডির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলীর সহযোগিতায় ঠিকাদার অতিরিক্ত বিল তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দার রহমত আলী বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে ঠিকাদার খাইরুল হাসান প্রভাবশালী হওয়ায় জেলা ও উপজেলা প্রকৌশলী যোগসাজশে সে সব বিল তুলে নিয়েছে। এজন্যই এলাকাবাসী দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। কাজের কথা বললে ঠিকাদারের লোকেরা হুমকি দামকি দেয়
এ বিষয় ঠিকানার খাইরুল হাসানের সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করা করা হলে সাড়া পাওয়া যায় নি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তদারকি দায়িত্বে থাকা আরিফ হোসেনের সাথে অতিরিক্ত বিলের বিষয় কথা বললে তিনি বলেন দ্রুত কাজ শুরু হবে।
অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের বিষয় নাসিরনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মোমিনের কাছে জানতে চাই তিনি বলেন, আমি নতুন আসছি, সব ফাইলপত্র দেখতে হবে, অতিরিক্ত বিলগুলো আগে ইঞ্জিনিয়ার দিয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ইব্রাহীম খলিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এক মাসের ভিতর যেন কাজ শেষ করে, ঠিকাদারকে আমি চাপ দিয়ে দ্রুত কথা বলবো।

Posted ১২:২৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
dainiksarod | Pijush Kanti Acharya
এ বিভাগের আরও খবর