কসবা প্রতিনিধি
প্রিন্ট
সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৭ অপরাহ্ণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত সমর্থক ও হেফাজত সমর্থিত সীরাতুন্নবী (সাঃ) উদযাপনকারী সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর পর্যন্ত উপজেলা কদমতলী এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মিলাদুন্নবী উদযাপনকারী সমর্থকেরা ঐতিহ্যবাহী আড়াইবাড়ী মাদরাসা, কদমতলীতে কোরআনের ভাস্কর্য ভাংচুর করে। এতে এলাকাবাসীও মিলাদুন্নবী সমর্থকদের উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় উপজেলার কদমতলী এলাকা।
এই সংঘর্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। পরে সেনাবাহীনি ও পুলিশ এসে প্রায় দুই তিনঘণ্টা পর পরিস্থিত নিয়ন্ত্রনে আনেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কদমতলী এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহীনি মোতায়েন রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ শাহরিয়ার মুক্তার।
জানা যায়, সোমবার পৌরশহরের সুপার মার্কেট চত্বরে হেফাজত সমর্থিতদের সীরাতুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে দোয়া মাহফিলের আয়োজন উপজেলা হেফাজত ইসলারেম নেতাকর্মীরা। অপরদিকে কদমতলী এলাকায় সুন্নী সম্প্রদায়ের ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন উপলক্ষে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে পুরকুইল দরবারের পীর মাওলানা ছদর উদ্দিন। পরে ঈদে মিলাদুন্নবী পালনকারীরা ও হেফাজত সমর্থিত সীরাতুন্নবী পালনকারী এবং আড়াইবাড়ী গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়ায়। দফায় দফায় এই সংঘর্ষ দুপুর পর্যন্ত চলে।
এ বিষয়ে হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রিয় যুগ্ম প্রচার সম্পাদক মাওলানা ইয়াকুব উসমানী জানান, পৌরসভার সুপার মার্কেট চত্ত¦রে তাদের পক্ষ থেকে সীরাতুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তাদের লোকজন একত্রিত হওয়ার জন্য কদমতলী কোরআন ভাস্কর্যের সামনে সমবেত হতে থাকে। সকালের দিকে পাশ্ববর্তী টিআলী বাড়ীর মোড় থেকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী পুরকুইল দরবার শরীফের পীর ছদর উদ্দিন সাহেবের সমর্থিতরা এসে তাদের উপর হামলা করে এবং কোরআনের ভাস্কর্য ও আড়াইবাড়ী মাদরাসায় আক্রমন করে। পরে তাদের সাথে আমাদের সমর্থকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। আড়াইবাড়ী মাদরাসায় আক্রমন করায় গ্রামবাসীও তাদের উপর চড়াও হয়।
এ বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ঈদে মিলাদুন্নবী সমর্থিত পুরকুইল দরবার শরীফের পীর সাহেব মাওলানা ছদর উদ্দিন বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই পারিনি। এর আগেই হেফাজত সমর্থিত লোকজন নিজেরাই কোরআনের ভাস্কর্য ও আড়াইবাড়ী মাদরাসায় আক্রমন করে আমাদেরকে দোষারোপ করে গ্রামবাসীকে ক্ষেপিয়ে দিয়েছে আমাদের জশনে জুলুশ বানচাল করার জন্য এবং আমার সাথে যাওয়া লোকজনের উপর হামলা করেন। আমার বহু লোকজন আহত হয়েছে।
আড়াইবাড়ী দরবার শরীফের পীর সাহেব মাওলানা গোলাম খাবির সাঈদি বলেন, হেফাজত নেতাদের সাথে জশনে জুলুশ নিয়ে সুন্নী সম্প্রদায়ের লোকজনের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। জশনে জুলশকারীরা আমাদের মাদরাসায় ও কদমতলী মোড়ে কোরআনের ভাস্কর্য ভাংচুর করে বলে দাবী করেন। মাদরাসায় হামলা করায় গ্রামবাসী তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শাহরিয়ার মুক্তার বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।

Posted ১০:৩৭ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪
dainiksarod | Pijush Kanti Acharya
এ বিভাগের আরও খবর