অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : 3:56 pm
কসবা উপজেলার চাঞ্চল্যকর মানিক মিয়া হত্যা মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ মামলার অপর ছয় আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক অসীম কুমার দে এ রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের নিমবাড়ী গ্রামের মো. মোতাহার মিয়া এবং তাঁর দুই ছেলে মো. মনির মিয়া ও মো. কামাল মিয়া। রায় ঘোষণার সময় কামাল মিয়া আদালতে উপস্থিত থাকায় তাঁকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আসামি মনির মিয়া ও মোতাহার মিয়া পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
খালাসপ্রাপ্ত ছয় আসামি হলেন মো. নবীর হোসেন, মো. রুবেল মিয়া, মো. শরীফ মিয়া, মনোয়ারা বেগম ওরফে মিনু, জিয়াছমিন এবং খাদিজা বেগম। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাঁদের খালাস দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে তন্তর বাজারে মুদি দোকানের ব্যবসা শেষ করে বাড়িতে ফেরেন মানিক মিয়া। পরে রাতের খাবার খাওয়ার সময় তাঁর চাচি মাহমুদা বেগম জরুরি কাজের কথা বলে তাঁকে চাচা মোতাহার মিয়ার বাড়িতে যেতে বলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেখানে গেলে পূর্ববিরোধের জেরে চাচা ও চাচাতো ভাইসহ আসামিরা তাঁর ওপর হামলা চালান। এতে মানিক মিয়ার মাথা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পরদিন ১১ অক্টোবর নিহতের স্ত্রী হেলেনা আক্তার বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে কসবা থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে বুধবার আদালত এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট ফখর উদ্দিন আহমেদ খান ও অ্যাডভোকেট মো. নজির আহম্মদ। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. সারওয়ার-ই-আলম ও অ্যাডভোকেট মো. মফিজুর রহমান (বাবুল)।
রায়ের পর উভয় পক্ষের আইনজীবীরা জানান, এ রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁদের মতে, এ রায় ভবিষ্যতে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
Posted ৩:৫৬ পিএম | বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
The Daily Sarod | Pijush Kanti Acharya