অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
ইবোলার সংক্রমণ যতটা শনাক্ত করা হচ্ছে বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়ে আরো ভয়াবহ হতে পারে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)৷ এর প্রভাবে অন্যান্য দেশেও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে৷
রোববার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে ‘আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জনস্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে৷
সংস্থাটি জানিয়েছে, এই প্রাদুর্ভাব এখনো মহামারির আকার ধারণ করেনি৷ কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি কঙ্গোর সীমান্তবর্তী দেশগুলোর জন্যও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে৷ তাই এসব দেশগুলোকে নিজেদের জাতীয় দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সক্রিয় করার পাশাপাশি সীমান্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে ডাব্লিউএইচও৷
একইসঙ্গে, আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে সীমান্ত বন্ধ করা বা ভ্রমণ ও বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করারও আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা৷ সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ উল্টো ফল দিতে পারে৷ কারণ, নিয়মিত পথ বন্ধ থাকলে পণ্য পারাপার ও সীমান্ত পাড়ি দিতে মানুষ অনিয়মিত পথ বেছে নিতে পারে৷
এক বিবৃতিতে ডাব্লিউএইচও জানিয়েছে, বুন্ডিবুগিও ভাইরাসের কারণে এর প্রভাব আরো বেড়েছে এবং কঙ্গোতে বহু মানুষ মারা গেছেন৷ শনিবার পর্যন্ত কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে ৮০ জনের মৃত্যুর জন্য ইবোলা দায়ী বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ এছাড়া পরীক্ষায় আট জনের দেহে সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে৷ আরো ২৪৬ জন সংক্রমিত হয়েছেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে৷
কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যামুয়েল-রজার কাম্বা বলেছেন, ‘‘বুন্ডিবুগিও ধরনের ভাইরাসের কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই৷’’
‘‘এই ধরনের ভাইরাসের মৃত্যুহার খুব বেশি, যা ৫০ শতাংশেও উন্নীত হতে পারে,’’ বলেও জানান তিনি৷
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় শুক্রবার ও শনিবারের মধ্যে কঙ্গো থেকে আসা ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করে দুজনের শরীরে নিশ্চিত সংক্রমণ ধরা পড়েছে৷ তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন৷
ধারণা করা হয় বাদুড় থেকে উৎপত্তি হওয়া ইবোলা ভাইরাস মানব শরীরকে সংক্রমিত করলে মারাত্মক রক্তক্ষরণ এবং অঙ্গ বিকলতা ঘটতে পারে৷ এই ভাইরাস শরীরের তরল বা আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের সংস্পর্শের মাধ্যমে একজন থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়৷
কঙ্গোতে এ নিয়ে ১৭তম বারের মতো ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে৷ এই ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় অন্তত ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে৷
ভাইরাসটির দ্রুত গতি ছড়িয়ে পড়া ‘ভয়াবহ উদ্বেগের’ বলছে চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ)৷ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা বড় পরিসরে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানিয়েছে৷
সূত্র: ডয়চে ভেলে
Posted ১২:১২ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
dainiksarod | Pijush Kanti Acharya