শিরোনাম
লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রমে বৃহস্পতিবার থেকে বার্ষিকী উৎসব শুরু ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার কার্যালয় পরিদর্শনে অ্যাডিশনাল ডিআইজি নাজমুল হাসান সোনালী ব্যাংকের ভেতর থেকে গ্রাহকের প্রায় ৮ লাখ টাকা চুরি আখাউড়ায় উজানের ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে ২৫০ হেক্টর ফসলি জমি দু’বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আয়োজন হচ্ছে নৌকাবাইচ পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা: তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি জালশুকার আমিনুল হকের মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের নির্বাচন ৫ সেপ্টেম্বর, সুষ্ঠু ভোটের আশ্বাস কমিশনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সমবায় ব্যাংকের বিশেষ সাধারণ সভা, চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম ‘প্রয়াস’ থেকে পালিয়েছে ৪০ রোগী, মৃত্যুর ঘটনায় নেই মামলা

বউয়ের মানসিক নির্যাতনের শিকার ৮০শতাংশ পুরুষ, লজ্জায় প্রকাশ করে না কেউ

ডেস্ক রিপোর্ট   প্রিন্ট
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২০   সর্বশেষ আপডেট : 11:27 pm

বউয়ের মানসিক নির্যাতনের শিকার ৮০শতাংশ পুরুষ, লজ্জায় প্রকাশ করে না কেউ

বিয়ের পর বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ পুরুষই মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ মেন’স রাইটস ফাউন্ডেশন নামের একটি বেসরকারি সংগঠন। সামাজিক লজ্জার ভয়ে অনেকেই এসব বিষয় প্রকাশ করতে চান না। নিজেদের পরিচালিত এক গবেষণার ভিত্তিতে এই তথ্য জানায় সংগঠনটি।

সংগঠনটির দেওয়া তথ্যে জানা যায়, সামাজিক লজ্জার ভয়ে পরিচয় প্রকাশ করেন না অভিযোগকারীরা। বিবাহিত অনেক পুরুষের নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয়ে একমত মানবাধিকার কর্মীরাও। তারা বলছেন, পুরুষদের নির্যাতিত হওয়ার খবর তাদের কাছে আসে। তবে যেই নির্যাতিত হোক তার আইনি সুরক্ষার দাবি জানান তারা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিছু বেসরকারি সংস্থা আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস পালন করছে। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মেন’স রাইটস ফাউন্ডেশন প্রতি বছর ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশে পুরুষ দিবস পালন করছে। এ বছরেও এমন আয়োজন করা হবে বলে জানায় সংগঠনটি।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান শেখ খাইরুল আলম জানান, ‘নির্যাতিত পুরুষদের’ পরামর্শ ও আইনি লড়াইয়ে সহযোগিতা দিতে এই সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘‘আমাদের কাছে প্রতিদিন যে ফোন আসছে তাতে আমরা দেখেছি, নীরবে চোখের জল ফেলছেন অনেক পুরুষ। লজ্জায় তারা নির্যাতনের কথা বলতে পারছেন না। কোনও নারী নির্যাতিত হলে তিনি তো বিচার চাইতে পারেন। অনেক সংগঠন তার পাশে দাঁড়ায়। নির্যাতিত পুরুষদের সহযোগিতার জন্য আমরা এ সংগঠনটি করেছি।”

নিজেও এমন নির্যাতনের শিকার দাবি করে শেখ খাইরুল আলম বলেন, ‘‘নির্যাতনের শিকার হয়ে আমি অনেক মানবাধিকার সংগঠনের কাছে গেছি। তারা কেউই নির্যাতিত পুরুষদের পাশে দাঁড়াতে রাজি হয়নি। অনেকটা বাধ্য হয়েই আমরা এই সংগঠন করেছি। এখন আমরা নির্যাতনের শিকার পুরুষকে আইনি লড়াইয়ে সহযোগিতা করছি। তাদের পরামর্শ দিচ্ছি। জাতীয় সংসদে পুরুষ নির্যাতনবিরোধী আইন করার জন্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছি। এই আইনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রচারণাও চালাচ্ছি।’’

সংগঠনটির গবেষণার বিষয়ে আলম বলেন, ‘‘আমাদের কাছে প্রতিদিন যে অভিযোগ আসে তার ভিত্তিতেই আমরা গবেষণাটি করেছি। তবে সমস্যা হলো, কেউই লিখিত অভিযোগ করতে চান না। ফলে আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনও দলিলাদি নেই।’’
সংগঠনটির দাবি বিদেশ থেকে ফোন করেও অনেকে তাদের কাছে নির্যাতনের অভিযোগ করছে।
এদিকে পুরুষ নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটে কিনা জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইম্যান অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সানজীদা আখতার বলেন, ‘‘আমাদের সমাজে পুরুষ একই সঙ্গে কিন্তু নির্যাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ। কোনও কোনও ক্ষেত্রে শ্রেণিভেদে তারা নির্যাতিত হলেও হতে পারে।’’

তিনি বলেন ‘‘গত বছর আমাদের এখানে ছোট পরিসরে পুরুষ দিবস উদযাপিত হয়েছে। পুরুষ নির্যাতন নিয়ে আমরা এখনো কোনও গবেষণা বা পরিসংখ্যান পাইনি। পুরুষরা যত বেশি পুরুষ হিসেবে নির্যাতিত হয়ে থাকেন তার চেয়ে অনেক বেশি শ্রেণি, অবস্থান ও আর্থসামাজিক দুর্বল অবস্থানের কারণে নির্যাতিত হন। একই কারণে নারীও নির্যাতিত হন।আমি মনে করি সব নির্যাতনেরই আইনি সুরক্ষা থাকা প্রয়োজন।’’

তার মতে, পুরুষ দিবসকে তাৎপর্যপূর্ণ করতে চাইলে সমাজে পুরুষকে যেভাবে তৈরি করা হয় সেই জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে হবে।

সূত্র: ডয়েচে ভেলে।

Facebook Comments Box

Posted ১১:২৭ পিএম | রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২০

The Daily Sarod |