জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রিন্ট
বুধবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : 8:52 pm
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে প্রবাসীর স্ত্রী নিহত জেকি আক্তারের ভাগ্নি জামাই জহিরুল ইসলাম (২৫)। তাকে পুলিশ নরসিংদী জেলার মাদবদী থেকে গ্রেফতার করেছে। সে ওই এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে। এই ঘটনার বিস্তারিত জানাতে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এতে বক্তব্য রাখেন অতিথি পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) জয়নাল আবেদীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সোনাহর আলী শরীফ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) সিরাজুল ইসলাম।
এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) সিরাজুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় তথ্য ও বিভিন্ন টেকনিক্যাল মাধ্যম ব্যবহারের ভিত্তিতে রাতে নিহত জেকী আক্তারের ভাগ্নীর জামাই জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ঘটনার পূর্নাঙ্গ বিবরণ দেয়। তিনি বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট স্বাগত সৌম্যের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
জহির তার জবানবন্দিতে জানান, বিয়ের পর থেকে সে পারিবারিক ভাবে অশান্তিতে ছিল। শ্বশুর বাড়ি থেকে নানান ভাবে চাপে রেখে অশান্তিতে রাখতো। আর শ্বশুর-শ্বাশুড়ি তার খালা শ্বাশুড়ির পরামর্শ মতো চলতেন। পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির সহায়তা চাইতে সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার খালা শ্বাশুড়ী জেকী আক্তার এর বাসায় আসে। জহিরুল তার স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিষয়ে বিরোধ নিয়ে আলোচনা কালে জেকি আক্তারের সাথে কথা কাটাকাটি একপর্যায়ে বটি দিয়ে মাথার পিছনে ও ঘাড়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘুমিয়ে থাকা খালা শাশুড়ীর বড় ছেলে মাহিন (১৪) জেগে চিৎকার দিয়ে হত্যাকারী জহিরুলকে থামাতে এলে তাকেও বটি দিয়ে কোপ দেয়। মাহিন বাঁচার জন্য দৌঁড় দিয়ে নিজ রুমে ডুকে দরজা বন্ধের চেষ্টা ও চিৎকার করতে থাকলে ঘাতক তাকে টেনেহেঁচড়ে মায়ের পাশে ফেলে ফুঁপিয়ে গুরুতর আহত করে। মাহিন তখনও উচ্চস্বরে চিৎকার করতে থাকলে ঘাতক তার মুখ গামছা দিয়ে বেধে উপর্যুপুরী কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। তখন মহিন (০৭) এর ঘুম ভেঙ্গে গেলে মহিন অসহায়ের মতো দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে। ঘাতক তখন বটি ফেলে হাটাহাটি করতে থাকে এবং চিন্তা করতে থাকে মহিন তাকে চিনে সে বলে দিতে পারে তাই সে মাহিন এর শয়ন কক্ষ হতে বাটাল নিয়ে এসে মহিন এর দিকে তাকালে মহিন ভয়ে বাথরুমের দিকে দৌড় দেয়। ঘাতক মহিনকে বাথরুমের দরজার সামনে ধরে কন্ঠনালীর নিচের দিকে বাটাল ঢুকিয়ে দেয়। মহিন ছুটে বাথরুমে ঢুকে পরে। ঘাতক বাথরুমে ঢুকে মহিনের মাথার ডান পার্শ্বে বাটাল ঢুকিয়ে দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে বাথরুমে ফেলে রাখে। একই বাটাল দিয়ে মাহিন (১৪) এর ডান চোখের কোনে এবং ঘাড়ে আঘাত করে ও জেকী আক্তারের মাথায় ও পেটে বাটাল ঢুকিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। রক্তাক্ত লুঙ্গি পলিথিনে করে ব্যাগে নিয়ে মেইন গেট বাহিরের দিক থেকে লাগিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনার সময়ে ঘাতকের পরিহিত ফুলহাতা শার্টটি ভেজা অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে।
এর আগে, মঙ্গলবার সকালে জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর ইউনিয়নের চর ছয়ানী এলাকার সৌদি প্রবাসী শাহ আলমের স্ত্রী জেকি আক্তার (৩৫), তার বড় ছেলে মাহিন (১৪) ও ছোট ছেলে মহিন (৭) এর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
Posted ৮:৫১ পিএম | বুধবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৩
dainiksarod | Pijush Kanti Acharya