নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ
কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসতেই দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে বড় আকারের গরু নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ ও ‘নেতানিয়াহু’র পর এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে বিশালাকৃতির একটি গরু— ‘কালো মানিক’। প্রায় ৩৫ মণ ওজনের এই গরুটিকে দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন শত শত মানুষ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের হাওরবেষ্টিত কান্দি গ্রামের ছোট্ট একটি ঘরে বেড়ে উঠেছে ‘কালো মানিক’। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন এক বিশাল কালো পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে উঠানে। গরুটির বিশাল দেহ, চকচকে কালো রঙ আর শান্ত স্বভাব ইতোমধ্যেই এলাকাজুড়ে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
খামারি শফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী জাহেদা আক্তার ২০২২ সাল থেকে গরুটিকে লালন-পালন করছেন। অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটিকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে বড় করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা মোটাতাজাকরণ ইনজেকশন ছাড়াই খড়, ভূষি ও কাঁচা ঘাস খাইয়ে চার বছরে গরুটির ওজন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ মণ।
প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গরুটি দেখতে মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। শুধু ভলাকুট ইউনিয়ন নয়, আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও লোকজন ছুটে আসছেন ‘কালো মানিক’কে এক নজর দেখতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ গরুটির পাশে দাঁড়িয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রত্যন্ত গ্রামের একটি সাধারণ ঘরে এত বড় গরু পালন করা হয়েছে— এমন ঘটনা এলাকায় আগে দেখা যায়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মানুষের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
গরুর মালিক শফিকুল ইসলাম বলেন, “অনেকেই গরুটি দেখতে এসে ১১ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম বলেছেন। আমরা ১৮ লাখ টাকা আশা করছি। তবে আমরা চাই, ভালো ও সৎ মানুষের কাছেই গরুটি বিক্রি হোক।”
খামারি জাহেদা আক্তার বললেন,অনেক কষ্ট করে সন্তানের মত গরুটিকে বড় করেছি। পরিবারের সদস্যের মতোই যত্ন নিয়েছি। এখন সবাই গরুটি দেখতে আসছে, এতে ভালো লাগছে।আবার কষ্টও লাগছে। তবে সন্তান যখন বড় হয় কেউ হত দেশের বাইরে চলে যায়আবার আবার কারো বিয়ে হয়ে যায়।এভাবেই মেনে নিয়েছি বিষয়টিকে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ২নং ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুবেল মিয়া বলেন, “আমার জানা মতে পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় এত বড় গরু আর নেই। তাই ‘কালো মানিক’কে নিয়ে মানুষের আগ্রহও অনেক বেশি।”
মালিকপক্ষ জানিয়েছে, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ঐতিহ্যবাহী ভাদুঘর কোরবানির হাটে তোলা হবে ‘কালো মানিক’কে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কে হচ্ছেন আলোচিত এই বিশাল গরুটির নতুন মালিক।
Posted ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
dainiksarod | Pijush Kanti Acharya