জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রিন্ট
বুধবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : 9:39 pm
প্রেমিকা নিয়ে পালিয়ে যেতে টাকা সংগ্রহ করতে মামাতো বোন ফাতেহা আক্তার (৭)কে অপহরণ করে লাজিম। পরে তাকে হত্যা করে ডোবায় কচুরিপানায় চাপা দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (০৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট স্বাগত সোম্যের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মো. লাজিম (১৯) ও তার সহযোগী আলাউদ্দিন (২১) এই কথা জানান।
মো. লাজিম বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিয়াদৌলত গ্রামের রাজ্জাক মিয়ার ছেলে ও আলাউদ্দিন শুটকি কান্দি গ্রামের মমিন মিয়ার ছেলে।
এর আগে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের শুটকি কান্দি গ্রামের প্রবাসী বাছেদ মিয়ার মেয়ে ফাতেহা আক্তার নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়।পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধ্যান পাচ্ছিল না। এরই মাঝে শিশুটির পরিবারে মুঠোফোনে কল দিয়ে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারিরা। তবে কোন প্রকার মুক্তিপণ দেয়নি তার পরিবার। বিষয়টি সোমবার ২ অক্টোবর বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় জানালে তদন্তে নামে পুলিশ। পুলিশকে জানানোর ১০ ঘন্টার মধ্যেই সন্ধ্যায় প্রযুক্তির সহায়তায় নিখোঁজ ফাতেহার ফুফাতো ভাই লাজিম ও তার সহযোগী আলাউদ্দিনকে পুলিশ আটক করে। তাদের দুজনের মুঠোফোনে শিশুটিকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি সংক্রান্ত চ্যাটিং পাওয়া যায়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে শিশুটিকে হত্যার পর ডোবার পানিতে লুকিয়ে রাখার কথা তারা জানায়। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের দেখানো ডোবা থেকে শিশু ফাতেহার মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূরে আলম জানান, শিশু ফাতেহাকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনা তার মা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতার হওয়া ফাতেহার ফুফাতো ভাই ও তার সহযোগী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
আদালতে স্বীকারোক্তিতে আসামী লাজিম জানায়, তার সাথে একজনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। এরই প্রেক্ষিতে সে তার প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। এজন্যে তার টাকার প্রয়োজন ছিল। তাই সে আলাউদ্দি তার মামাতো বোন ফাতেহাকে অপহরণ করে।
অপহরণের পর ফাতেহার পরিবারের কাছে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। সেই টাকা দিয়ে লাজিম তার প্রেমিকা নিয়ে পালিয়ে গিয়ে দোকান দিয়ে সুখে-শান্তিতে সংসার করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেই টাকা পাওয়া যাবেন না বুঝতে পেরে শিশু ফাতেহাকে গলা চেপে হত্যা করে লাজিম ও তার সহযোগী আলাউদ্দিন। পরে ফাতেহার মরদেহ একটি ডোবায় লুকিয়ে চাপা দেয়।
Posted ৯:৩৯ পিএম | বুধবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৩
dainiksarod | Pijush Kanti Acharya