শিরোনাম
রিয়াদে বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১২ গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে বিএনপি দেশের মানুষের সাথে গাদ্দারি করেছে: মামুনুল হক শঙ্খ-উলুধ্বনিতে মুখরিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মহালয়ায় শুরু শারদোৎসব আন্তঃপ্রজন্ম সহযোগিতায় প্রবীণদের আয়মূলক কাজে সম্পৃক্তির আহ্বান বিজয়নগরে পুলিশের পিকআপ ভ্যান খাদে পড়ে পুলিশ ও আসামিসহ আহত ৫ সৌদি আরবের ৩০ কেজির পার্সেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৯ কেজি! তিতাস ট্রেনের বুকিং ক্লার্ককে মারধরের অভিযোগ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর হাসপাতাল থেকে তিনদিনের নবজাতক চুরি ট্রেইনি অফিসার নিচ্ছে ওয়ান ব্যাংক সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় নিহত ৩

স্ত্রীর যাবজ্জীবন, পরকিয়া প্রেমিকের মৃত্যুদন্ড

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক   প্রিন্ট
সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪   সর্বশেষ আপডেট : 11:12 pm

স্ত্রীর যাবজ্জীবন, পরকিয়া প্রেমিকের মৃত্যুদন্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ২০১৯ সালে ব্যবসায়ীকে হত্যা মামলায় স্ত্রীর পরকিয়া প্রেমিককে মৃত্যুদন্ড ও স্ত্রীকে যাবজ্জীবনের রায় দিয়েছে আদালত। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা দায়রা জজ  শারমিন নিগার এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

দণ্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বারাইলচর গ্রামের তুজু মিয়া মোল্লার ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩৭) ও নিহত ব্যবসায়ী বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী রিনা বেগম (৩৩)। আদালতে রায় প্রদান করার সময় রিনা বেগম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বাঞ্ছারামপুরের বিষ্ণরামপুর বাজারে পেয়াজ রসুনের ব্যবসায়ী ছিলেন বাচ্চু মিয়া। রিনা বেগমকে বিয়ে করার পর তাদের ১৫ বছরের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান হয়। এরই মাঝে বাচ্চুর স্ত্রী রিনা তার খালাতো বোনের স্বামী রফিকুল ইসলামের সাথে অবৈধ পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং তারা শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানতে পেরে বাচ্চু মিয়া তার স্ত্রীকে শাসায়। তারপরও রিনা ও রফিক গোপনে মিলিত হতেন। পাশাপাশি রফিকুল বিবাহ করতে রিনা বেগমকে চাপ প্রয়োগ করে। রিনা জানায় স্বামী বাচ্চুকে মেরে ফেলতে পারলে তাহলেই রফিককে সে বিয়ে করতে পারবে। এর প্রেক্ষিতে দুজন বাচ্চু মিয়াকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করতে থাকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর বিকেলে বাচ্চু মিয়ার সাথে রফিকুল বাজারে চা পান করেন। এরপর সন্ধ্যায় তাকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়ানোর কথা বলে নির্জন স্থানে নিয়ে রফিকুল লোহা কাটার হ্যাস্কো ব্লেড দিয়ে বাচ্চু মিয়ার গলা কেটে ফেলে দিয়ে আসে।
এরই মাঝে বাচ্চু মিয়াকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা খোঁজ করতে থাকে। তাদের সাথে রফিকুল ও রিনাও বাচ্চুর খুঁজে নামে। পরদিন বাচ্চুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় অজ্ঞাত আসামী করে নিহতের ছোট ভাই আলমগীর হোসেন বাদি হয়ে বাঞ্ছারামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরই মাঝে নিহতের মরদেহ বাড়িতে এসে পৌছালে স্থানীয়রা রফিকুল ও রিনার পরকিয়ার বিষয়টি প্রকাশ করে ক্রোধে ফেটে পড়েন। এই অবস্থায় তাদের দুজনকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং থানায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এবং আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে দুজনই হত্যার দায় স্বীকার করেন।
এই অবস্থায় একই বছর ২২ ডিসেম্বর বাঞ্ছারামপুর থানা পুলিশ দুইজনকে আসামী করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। কিন্তু আসামী পক্ষ নারাজি দিলে মামলাটি সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের জন্যে আদালত নির্দেশ প্রদান করেন। সিআইডি মামলাটি তদন্ত করে রিনা বেগম ও রফিকুল ইসলামকে হত্যায় অভিযুক্ত করে ২০২২ সালের ২৩ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরই মাঝে দুই আসামী জামিন পেয়ে জেল থেকে বের হন।

পরে যুক্তিতর্ক ও সাক্ষিপ্রমাণ সহ অন্যান্য কার্যক্রম শেষে সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আদালত রায়ে নিহত বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী রিনা বেগমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। তার প্রেমিক রফিকুল ইসলামকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি নিলামে বিক্রয় করে এর অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার নির্দেশ প্রদান করেন।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের পুলিশ পরিদর্শক কাজি দিদারুল আলম জানান, আদালতে উপস্থিত থাকা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত রিনা বেগমকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Facebook Comments Box

Posted ১১:১২ পিএম | সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪

The Daily Sarod |