শিরোনাম

‘সে যেন আমার লাশ না দেখে’

বিশেষ প্রতিনিধি   প্রিন্ট
শুক্রবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৮   সর্বশেষ আপডেট : 12:15 pm

‘সে যেন আমার লাশ না দেখে’

অবশেষে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) নির্বাচনী আসনে  ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন শ্বশুর জিয়াউল হক মৃধা এমপি ও জামাই রেজাউল ইসলাম ভূইয়া। একজন করছেন স্বতন্ত্র অপরজন পেয়েছেন দলীয় মনোনয়ন। তবে জামাতাকে মেনে নিতে পারছে না স্থানীয় জাতীয়পার্টির নেতা কর্মীরা। আর শ্বশুর বলে দিলেন, আমি মৃত্যুর আগে বলে যাব সে যেন আমার লাশ না দেখে।

এই আসনে বর্তমান সাংসদ অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা। তিনি দুইবারের সংসদ সদস্য এই নির্বাচনী এলাকার। পাশাপাশি তিনি জাতীয়পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয়পার্টির আহবায়ক। অসন্ন নির্বাচনেও জিয়াউল হক মৃধা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে জাতীয়পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু  তাকে মনোনয়ন না দিয়ে জাতীয়পার্টি মনোনয়ন দিয়েছে তার জামাতা অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূইয়াকে। রেজাউল ইসলাম জাতীয়পার্টির চেয়ারম্যান হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের যুব বিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) নির্বাচনী আসনের ভোটার।

দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে শেষ দিনে সরাইলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন এই নির্বাচনী আসনের বর্তমান সাংসদ অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা। আর তার জামাতা এখন পর্যন্ত যেতে পারেনি সরাইলে। তাই মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিনে রেজাউল ইসলাম ভূইয়া মনোনয়ন দাখিল করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ে।
রেজাউল ইসলাম ভূইয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের মনোনয়ন নিয়ে এতদিন নিজে বিব্রত বললেও মনোনয়ন দাখিল শেষে সাংবাদিকদের জানান, দ্ব›দ্ব হচ্ছে রাজনৈতিক দ্ব›দ্ব এখানে শ্বশুর জামাইয়ের ব্যক্তিগত কোন ব্যাপার নাই। উনি আমার শ্রদ্বেয় ব্যক্তি, আমার বাবা মারা গিয়েছে, আমি তাঁকে আমার বাবা মনে করি। আমি মনে করি দল এবং প্রধানমন্ত্রী আমাকে যে মনোনয়ন তিনি আমার পক্ষে কাজ করবেন। তিনি আরো বলেন, আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছেলে, এই এলাকায় আমি বড় হয়েছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ নির্বাচনী এলাকায় ২০০৮ ও ২০১৪ সালের আমাদের দলের প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধার চিফ নির্বাচনী এজেন্ট ছিলাম। তাই আমি সমস্থ এলাকার সাথে আগে থেকেই পরিচিত। সং¯িøষ্ট নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ আছে।

তার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রেজাউল ইসলামের শ্বশুর ও বর্তমান সাংসদ জিয়াউল হক মৃধা বলেন, আমি তার (রেজাউল ইসলাম) জন্যে কাজ করবো না। আমি ¯^তন্ত্র দাঁড়িয়ে থাকব। আমার পরিস্কার কথা, তাকে আমি ছাড় দেব না। আমার যেহেতু বয়স বেশি, মুত্যু আমারই আগে হবে। আমি অছিয়ত করে যাব, আমার মৃত্যুর পর সে (রেজাউল ইসলাম) যেন আমার লাশ না দেখে ও জানাযায় না যায়।

রেজাউল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়ায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে জাতীয়পার্টির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে। গত ২৭ নভে¤^র সরাইলের কুট্রাপাড়া মোড়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের জাতীয়পার্টির নেতাকর্মীরা। এসময় তারা কাফনের কাপড় পড়ে মহাসড়কে শুয়ে পড়ে ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে।
সরাইল উপজেলা জাতীয়পাটির সদস্য সচিব হুমায়ূন কবির বলেন, আমরা কোন বহিরাগত প্রার্থীকে মেনে নেব না। আমাদের দাবী দুইবারের এমপি জিয়াউল হক মৃধা। প্রয়োজনে আমরা জিয়াউল হক মৃধাকে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবো।

এই আসনে আওয়ামীলীগ থেকে কাউকে দলীয় মনোনয়ন পত্র দেওয়া হয়নি। তাই অনেকটা নিশ্চিত এই আসনটি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে মহাজোটের শরিক জাতীয়পার্টিকে।

Facebook Comments Box

Posted ৬:৩৩ পিএম | শুক্রবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৮

The Daily Sarod |