ধর্ষণের আলামত মিলেছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ আর শ্বাসরোধে মৃত্যু হয় শিশু মাহিদার

অনলাইন ডেস্ক   প্রিন্ট
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬   সর্বশেষ আপডেট : 7:35 pm

ধর্ষণের আলামত মিলেছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ আর শ্বাসরোধে মৃত্যু হয় শিশু মাহিদার

অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে পুলিশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের শিশু মাহিদা আক্তারকে (৭) ধর্ষণের আলামত পেয়েছে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা। ধর্ষণের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং শ্বাসরোধের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎকরা। আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শাহীন ভূঁইয়া এ তথ্য জানিয়েছেন। নিহত মাহিদা আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর ইউনিয়নের আন্দিদিল গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী মো. মোজাম্মেলের মেয়ে। সে স্থানীয় ফাতেমা নূন নেছা মাদরাসার নূরানী দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত।

শিশু মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে আশুগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন তার মা মনিরা আক্তার। আজ বিকেলে মামলাটি নথিভুক্ত করার পর অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম (২০) কে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (পঞ্চম) আদালতে হাজির করে পুলিশ। জাহিদুল আন্দিদিল গ্রামের মৃত শাহ আলমের ছেলে। সে সম্পর্কে মাহিদার চাচা হন।
মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার সকালে মনিরা আক্তার তার অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে জেলা সদরের চিকিৎসকের কাছে যান। মাহিদা তার সহপাঠিদের সঙ্গে খেলা করছিল। দুপুরে মাহিদাকে পানি এনে দেয়ার কথা বলে চাচা জাহিদুল। মাহিদা কলসে করে পানি এনে দেয়। এ সময় জাহিদুল পানি নিয়ে তার সাথে ঘরে যেতে বলে মাহিদাকে। পরে তাকে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণের পর বালিশচাপা এবং গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
পরবর্তীতে মনিরা বাড়িতে গিয়ে মাহিদাকে না পেয়ে তাকে খুঁজতে বের হয়। এরপর মাহিদাকে অচেতন অবস্থায় জাহিদুলের ঘরে পান। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মাহিদার মরদেহ ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শাহীন ভূঁইয়া বলেন, সাধারণত আমি একাই মরদেহের ময়নাতদন্ত করি। কিন্তু যেহেতু অভিযোগ ছিল মাহিদাকে ধর্ষণ করা হয়েছে- সেজন্য ময়নাতদন্ত করার সময় হাসপাতালের গাইনী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কামরুন্নারও ছিলেন আমার সঙ্গে। শারীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নের পাশাপাশি মাহিদাকে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছেন যা. কামরুন্নাহার।
তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তে মাহিদার মৃত্যুর দুইটি কারণ জানা গেছে। একটি হচ্ছে তাকে নাক-মুখ চেপে শ্বাসরোধ করা হয়েছে। আরেকটি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। শিশু হওয়ায় ধর্ষণের ফলে রক্তক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে।
এ দিকে, শিশু মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় বিচার দাবিতে শনিবার বিকেলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামে একটি সংগঠন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, বিকেলে জাহিদুলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments Box

Posted ৭:৩৪ পিএম | শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

The Daily Sarod |