বিশেষ প্রতিনিধি
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২০
সর্বশেষ আপডেট : 7:28 pm
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ভাগ্নে-ভাগ্নীকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় ঘাতক মামা বাদল মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭আগস্ট) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জাহিদ হোসাইনের কাছে এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজু আহমেদ।
আরও পড়ুনঃ প্রতিশোধ নিতে ভাগ্নে-ভাগ্নিকে জবাই করে হত্যা করে আপন মামা
গত সোমবার (২৪আগস্ট) রাতে উপজেলার সলিমাবাদের সাহেবনগর গ্রামে নিজ বাড়ির পৃথক দুইটি কক্ষের খাটের নিচ থেকে কামরুল ইসলাম (১০) ও শিফা আক্তার (১৪) নামের দুই ভাই-বোনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত কামরুল ইসলাম ও শিফা আক্তার ওই এলাকার প্রবাসী কামাল উদ্দিনের সন্তান ছিলেন।
এই ঘটনার পর পলাতক থাকায় নিহতদের বাদল মিয়াকে গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানী থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করে পুলিশের কাছে বাদল। গ্রেফতারকৃত বাদল মিয়া কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার খোদে দাউদপুরের মৃত আব্দুর রবের ছেলে।
আরও পড়ুনঃ বাঞ্ছারামপুরে ভাই-বোন হত্যা: পলাতক মামা আটক, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ
গ্রেফতারের পর নিহতদের মামা বাদল মিয়া পুলিশকে জানায়, বাদল মিয়া বাইরাইন প্রবাসী ছিলেন। গত মার্চ মাসে বাদল মিয়া বাহরাইন থেকে দেশে আসার পর করোনা মহামারীর কারণে আর বিদেশ যেতে পারেনি। গোষ্ঠীগত দাঙ্গায় মামলার আসামী হওয়ায় কুমিল্লা থেকে বাঞ্ছারামপুরে ভগ্নিপতির বাড়িতে আত্মগোপনে ছিল। সে বাহরাইন থাকাকালে দোকান করার জন্য তার ভগ্নিপতি কামাল উদ্দিনের কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা ধার নেয়। এরমধ্যে ৩ লাখ টাকা ফেরত দেয়। বাকি ১০ লাখ টাকা ফেরত না দেয়ায় কামাল উদ্দিনের সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল তার। এজন্য সপ্তাহখানেক আগে বাদল মিয়াকে থাপ্পড়ও মারেন কামাল উদ্দিন। সেই রাগে প্রতিশোধ নেয়ার পরিকল্পনা করে বাদল।
আরও পড়ুনঃ পরিবারের সাথে কামরুলকে খুঁজছিলেন বোন শিফাও
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের খাবারের পর কামরুল ইসলাম তার মায়ের নিকট হতে মজা খাওয়ার কথা বলে ৫০ টাকা নিয়ে মামা বাদল মিয়ার রুমে যায়। তখন বাদল মিয়া তার ভাগ্নে কামরুলের হাত-পা বেঁধে ধারালো ছুরি দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে। পরে লাশ খাটের নিচে রেখে দেয়। ভাগ্নি শিফা ঝাড়ু দিতে গিয়ে তা দেখে ফেললে তাকেও হত্যা করতে জোড়াজুড়ি করে বাদল। পরে এক ধাক্কা মেরে ওয়াশরুমে নিয়ে তাকেও গলাকেটে হত্যা করে লাশ খাটের নিচে রেখে দেয়।
আরও পড়ুনঃ বাঞ্ছারামপুরে নিখোঁজের পর নিজ বাড়ির খাটের নিচে মিলল ভাই-বোনের মরদেহ
পরে শিফা ও কামরুলকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সাথে বাদলও তাদের খোঁজ করতে গিয়ে পালিয়ে যায়।
এই ঘটনায় নিহতদের পিতা কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে বাঞ্ছারামপুর থানায় বাদল মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
Posted ৭:১৯ পিএম | বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২০
The Daily Sarod | Pijush Kanti Acharya