স্টাফ রিপোর্টার
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : 12:59 am
গত রোববার (৭ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের যে কয়েকটি আসনে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে- তার মধ্যে অন্যতম ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন। প্রায় ২ দশকেরও বেশি সময় ধরে এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে। এবারও বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব:)এ. বি. তাজুল ইসলাম আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হয়েছে। এ আসনে ভোট পড়েছে ৭৬ শতাংশ।
যদিও, ভোটের আগে নির্বাচনী জনসভায় সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছিলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি ঐক্যের বাঞ্ছারামপুর গড়ার প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন সবসময়। বাঞ্ছারামপুরে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হামলা-মামলা করা হয়নি। বিগত ১৫ বছর বিএনপি নেতাকর্মীদের সম্মান দিয়েছেন। যার ফলে বিএনপি নির্বাচনে না এলেও দলটির অধিকাংশ নেতাকর্মী তাকে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার আশাও করেছিলেন।
অবশ্য, ভোটেরদিন বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ূবপুর, মরিচাকান্দি, কালিকাপুর, আসাদনগর, বাখরনগরসহ প্রায় সবকটি ভোটকেন্দ্রেই ভোটার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরুষের সাথে পাল্লা দিয়ে নারী ভোটারদের উপস্থিতির হারও ছিল প্রায় সমান।
জেলা প্রশাসক ও রির্টার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে ভোট পড়েছে ৫৪ দশমিক ৬১ শতাংশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনে ৩৬ দশমিক ৮১ শতাংশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনে ৩৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা ও আখাউড়া) আসনে ৫৮ দশমিক ১৩ শতাংশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে ৪০ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে ভোট পড়েছে ৭৬ শতাংশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেছেন। এ আসনের ভোটার ২ লাখ ৬৪ হাজার ৪৩৩ জন। এর মধ্যে নির্বাচনে ভোট পড়েছে ২ লাখ ৯৭০টি। এর মধ্যে ত্রুটির কারণে বাতিল করা হয়েছে ১ হাজার ১৭৮টি ভোট। বৈধ ১ লাখ ৯৯ হাজার ৭৯২ ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তাজুল ইসলাম ইসলাম নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮৭০ ভোট। বাকি তিন প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টির আমজাদ হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে ২ হাজার ৮১৭ ভোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির কবির মিয়া একতারা প্রতীকে ১ হাজার ৩৭৩ ভোট এবং আম প্রতীকে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী সফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ৭৩২ ভোট।
সর্বোচ্চ ভোট পড়ার কারণ হিসেবে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম জানান, বিগত ১৫ বছরে বাঞ্ছারামপুরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। প্রকৃতপক্ষে তাজুল ইসলামের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলনা নির্বচানে। তারপরও আমরা উপজেলার প্রতিটি গ্রামে-গ্রামে ঘুরে প্রচারণা চালিয়েছি। আমাদের আবেদন ছিল- আপনারা ভোট দেবেন, নিজে কেন্দ্রে যাবেন ও পরিবার, পাড়া-মহল্লা এবং গ্রামের সবাইকে নিয়ে যাবেন। নিজের ভোট নিজে দেবেন। আমরা এ ব্যাপারে সবার প্রতিশ্রুতি নিয়েছি এবং সাধারণ ভোটাররা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন।
গত ৪ জানুয়ারি নির্বাচনী শেষ জনসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী, সাবেক সেনা কর্মকর্তা এ. বি. তাজুল ইসলামের দেয়া বক্তব্যও ভোটারদের মনে দাগ কাটে। ওইদিন তিনি বলেছিলেন, নির্বাচন আসে পাঁচ বছরের জন্য। ১৮২৬ দিন লাগে পাঁচ বছর হইতে, লিপ ইয়ার হলে একদিন বাড়ে। আমি তো আপনাদের সন্তান এবং ভাই হিসেবে বিগত ২০ বছর ধরে আপনাদের সেবা করে যাচ্ছি। সেই সেবার সূত্র ধরে আগামী পাঁচ বছর আপনাদের সেবা করার জন্য আমি কি একটি দিন ধার চাইতে পারি না? একটা দিন (৭ জানুয়ারি) আপনাদের কাছে ধার চাই। এই একটা দিন যদি আমাকে দেন, আমি এর বিনিময়ে আমার জীবন দিয়ে হলেও আপনাদের আশা আকাঙ্খা সমস্ত কিছু দেখভাল করে ওই একদিন বোনাসসহ ফেরত দিব, এটা আমার প্রতিশ্রুতি।
নবনির্বাচিত ক্যপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম বলেন,আমাদের উপজেলা আওয়ামীলীগে কোন কোন্দল নেই।কোন রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় প্ররোচিত হয়ে কাওকে হয়রানী করা হয়নি।সমভাবে এলাকার উন্নয়ন করা হয়েছে।আর তাই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে মানুষের ঢল নেমেছিল।
উল্লেখ্য, এ. বি. তাজুল ইসলাম এবার পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে জয়ের ধারায় এবার টানা চতুর্থবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন তিনি। ২০০৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী করা হয়। আগের চার মেয়াদে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছাড়াও নানা ক্ষেত্রে বাঞ্ছারামপুরকে সমৃদ্ধ করেন তাজুল ইসলাম।
Posted ১২:৫৯ এএম | বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৪
dainiksarod | Pijush Kanti Acharya