পীযূষ কান্তি আচার্য, নেদারল্যান্ডস থেকে
প্রিন্ট
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : 5:59 pm
বিশ্বব্যাপী নতুন ফাইবারের চাহিদা বাড়লেও প্রচলিত কাঁচামালের সীমাবদ্ধতা ও পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে টেক্সাইল বর্জ্য পুনর্ব্যবহারকে সামনে রেখে নতুন সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্যাক্সসেল (SaXcell)। প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহৃত তুলাভিত্তিক কাপড় থেকে সেলুলোজ পাল্প তৈরি করে তা থেকে পরিবেশবান্ধব নতুন ফাইবার উৎপাদন করছে।
স্যাক্সসেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্রমোদ আগরওয়াল মনে করেন, বাংলাদেশের মতো তৈরি পোশাক খাতে শক্তিশালী দেশগুলো নিজেদের টেক্সাইল বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্বজুড়ে ফাইবারের চাহিদা বাড়লেও তুলা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ পানি ও জমির প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে সিন্থেটিক ফাইবার ব্যবহারে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের ঝুঁকিও বাড়ছে। ফলে বিকল্প কাঁচামাল হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে টেক্সাইল বর্জ্য পুনর্ব্যবহার।
২০১১ সালে নেদারল্যান্ডসের স্যাক্সিয়ন ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেসের গবেষণা কার্যক্রম থেকে যাত্রা শুরু হয় স্যাক্সসেলের। ২০১৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে তুরস্ক ও নেদারল্যান্ডসের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে একটি পূর্ণাঙ্গ সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলেছে।
প্রমোদ আগরওয়াল বলেন, “আমাদের মূল কাঁচামাল হলো তুলা-সমৃদ্ধ টেক্সাইল বর্জ্য। শিল্প কারখানার বর্জ্য থেকে শুরু করে ব্যবহৃত পোশাক, তোয়ালে ও বিছানার চাদর—সবকিছু থেকেই আমরা শতভাগ সেলুলোজ পাল্প তৈরি করতে পারি।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি কেজি তুলা উৎপাদনে প্রায় দুই হাজার লিটার পানি প্রয়োজন হয়। অথচ গত এক দশকে বিশ্বে তুলা উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। এই বাস্তবতায় প্রচলিত ভিসকোজের পরিবর্তে লায়োসেল প্রযুক্তিকে আরও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে প্রমোদ আগরওয়াল বলেন, “আমরা লায়োসেল প্রযুক্তি ব্যবহার করছি, তবে কাঠের পাল্পের পরিবর্তে ব্যবহার করছি টেক্সাইল বর্জ্য। এ ধরনের প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে প্রয়োগে আমরা বিশ্বে অগ্রগামী।”
নেদারল্যান্ডসের এনশেডেতে নির্মিত নতুন ডেমো প্ল্যান্টে ব্যবহৃত তোয়ালে ও বিছানার চাদর পুনর্ব্যবহার কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে স্যাক্সসেল। প্রতিষ্ঠানটির মতে, তৈরি পোশাক শিল্পে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় দেশ বাংলাদেশ নিজস্ব টেক্সাইল বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্বব্যাপী টেকসই উৎপাদন ও সার্কুলার অর্থনীতির প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকায়, টেক্সাইল বর্জ্যকে মূল্যবান কাঁচামালে রূপান্তরের এই প্রযুক্তি বাংলাদেশের জন্য নতুন সবুজ শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
Posted ৫:৫৯ পিএম | বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
dainiksarod | Pijush Kanti Acharya