https://www.jac-recruitment.sg/?source=google.com

টিকার ঘাটতিতে প্রাণঘাতী হাম সংকট আরো তীব্র

অনলাইন ডেস্ক   প্রিন্ট
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬   সর্বশেষ আপডেট : 7:15 pm

টিকার ঘাটতিতে প্রাণঘাতী হাম সংকট আরো তীব্র

শিশু সন্তানের অসহ্য যন্ত্রণা ও শ্বাসকষ্ট প্রশমন করতে কোলে নিয়ে তাকে দোল দিচ্ছিলেন ১৮ বছর বয়সি রুবিয়া আক্তার বৃষ্টি আর বর্ণনা করছিলেন প্রাণঘাতী হামের প্রাদুর্ভাব তার ছেলেকে কীভাবে প্রায় মৃত্যুর দ্বারে নিয়েছিল।

‘‘ছেলেটার প্রচণ্ড জ্বর ছিল, শ্বাস নিতে খুব কষ্ট হচ্ছিল” এক বছরের মিনহাজের জ্বরের তাপে উত্তপ্ত কপাল মুছতে মুছতে এএফপিকে বলছিলেন বৃষ্টি৷ ‘‘সারা শরীরে র‍্যাশ উঠেছিল৷”
হামে ভুগে গত ১৫ মার্চ থেকে বাংলাদেশে যে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৪৩ জন মারা গেছে, তাদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু৷ এছাড়া ১২ হাজারেরও বেশি রোগীকে সম্ভাব্য হাম-রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে৷ এমনটি গত ২০ বছরের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে আর কখনো হয়নি৷
আরো অনেকের মতো বৃষ্টিও জরুরি সহায়তার জন্য গ্রাম থেকে রাজধানী ঢাকায় ছুটে এসেছেন৷ এসেছেন মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালে৷ মূলত কোভিড-১৯-এর জন্য স্থাপিত হাসপাতালটি এখন রোগীর ভিড়ে উপচে পড়ছে৷
ওয়ার্ড জুড়ে চলছে শিশুদের কাশি আর যন্ত্রণা-কাতর আর্তনাদ৷ ছোট্ট শরীরগুলো র‍্যাশে ক্ষতবিক্ষত৷ সন্তানদের মুখের ওপর নেবুলাইজার ধরে রেখেছেন মায়েরা, যাতে ওদের ছোট্ট ফুসফুস একটু বাতাস নিতে পারে৷
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বের অন্যতম সংক্রামক রোগ হাম, যা কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ছড়ায়৷ যে-কোনো বয়সের মানুষেরই এ রোগ হতে পারে৷ তবে শিশুদের মধ্যেই এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়৷ হামের সুচিকিৎসা না হলে রোগীর মস্তিষ্কের ফোলাভাব দেখা দিতে পারে, গুরুতর শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতাও সৃষ্টি হতে পারে৷
নুসরাত জাহানের দুই সন্তানই অসুস্থ৷ টিকার কার্ড হারিয়ে ফেলায় তাদের টিকা দিতে পারেননি৷ নুসরাত জানালেন, তার দুই সন্তানই খুব কষ্ট পাচ্ছে৷ দুই সন্তানকে তিনি একসঙ্গে দেখতে পারছেন না৷ এ কারণে অনেক বেশি ধকল সইতে হচ্ছে তাকে৷ বললেন, ‘‘একজন প্রথম তলায়, অন্যজন দ্বিতীয় তলায় ভর্তি৷ মাঝখানে পড়ে গেছি আমি, কারণ, দুই বাচ্চাই আমার জন্য কাঁদে৷”
টিকাদান কর্মসূচি
সংক্রামক রোগ মোকাবেলায় টিকাদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য৷ কিন্তু শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে ভয়াবহ গণঅভ্যুত্থান চলার কারণে ২০২৪ সালে নির্ধারিত হামের টিকাদান কর্মসূচি পিছিয়ে যায়৷ মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভর্তি অনেক শিশুর পরিবারই জানিয়েছেন, তারা যে এলাকা থেকে এসেছেন, সেখানে টিকার আওতা সীমিত ছিল৷
এক বছর বয়সি সাফওয়ানের দাদি ইয়াসমিন খাতুন বললেন, ‘‘আমরা ওকে কেন্দ্রে নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানে হামের কোনো টিকা ছিল না৷”
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখন হামের বিস্তার রোধ এবং টিকাদান কর্মসূচি চালু করায় তৎপর৷ গত ৫ এপ্রিল জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে একটি জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে কর্তৃপক্ষ৷ এ কর্মসূচির লক্ষ্য ১২ লক্ষেরও বেশি শিশুকে সুরক্ষা দেওয়া৷
সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার মুখপাত্র জাহিদ রায়হান বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, মোট আক্রান্ত শিশুর মধ্যে ১৭ শতাংশ ইতিমধ্যে একটি ডোজ এবং ১১ শতাংশ দুটি ডোজ পেয়েছে৷ তবে তিনি আরো বলেন, ‘‘গোষ্ঠীগত ইমিউনিটি না থাকলে টিকা দেওয়ার পরেও শিশুরা সংক্রমিত হতে পারে৷ রায়হান জানান, সে আশঙ্কা দূর করতে ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়া প্রয়োজন৷ কিন্তু ২০২৫ সালে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি৷ রায়হান জানান, ‘‘গত বছর এই হার ছিল মাত্র ৫৯ শতাংশ৷”
বাংলাদেশের অনেক স্থানেই হামে কষ্ট পাচ্ছে শিশুরা৷ সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের গোলাম মোথাব্বির জানান, সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে এমন স্থানগুলোর মধ্যে জনবহুল রাজধানী ঢাকা এবং কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবির অন্যতম৷ টিকার ঘাটতির কারণে কী পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে তা ভেবে মোথাব্বির শঙ্কিত৷ তিনি বলেন, ‘‘পর্যাপ্ত টিকা দেওয়া না হলে, অথবা টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখা না গেলে এই প্রাদুর্ভাব ছড়াতে থাকবে এবং শিশু ওয়ার্ডগুলো ভরে যেতে থাকবে৷”
সূত্র: ডয়চে ভেলে
Facebook Comments Box

Posted ৭:১৪ পিএম | শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

dainiksarod |