ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা প্রতিনিধি
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : 10:48 pm
গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নকে সরাইল-আশুগঞ্জের সঙ্গে একীভূত করে নতুন সীমানার খসড়া প্রকাশ করে। এর পরদিন, ৩১ জুলাই মোহাম্মদ আতাউল্লাহ বিজয়নগরের সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনে লিখিত আপত্তিপত্র দাখিল করেন।
পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকবৃন্দও একই দাবিতে কমিশনে আবেদন জমা দেন। অখণ্ড বিজয়নগর রক্ষার দাবিতে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।
আবেদনের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন ২৪শে আগস্ট শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে। যেহেতু আমাদের আবেদন সর্বপ্রথম জমা হয়েছিল, তাই শুনানিতে আমাদের সিরিয়াল রাখা হয় ১ নম্বরে।
কিন্তু শুনানিতে অংশগ্রহণের আগেই আমাকে নানা ধরনের হুমকির সম্মুখীন হতে হয়। ২৪শে আগস্ট কমিশন ভবনে পৌঁছালে প্রধান ফটকে রুমিন ফারহানার অনুসারীরা আমাদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবুও আমরা ভেতরে প্রবেশ করি। দুপুর ১২টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের মাধ্যমে শুনানির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। রুমিন ফারহানাসহ শুনানিতে অংশ নেয়া সকলেই তাদের পক্ষে যুক্তি- তর্ক উপস্থাপন করে।
এক পর্যায়ে আমার বক্তব্য প্রদানের সময় হলে আমি ডায়াসে দাঁড়াই। আমি বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তে রুমিন ফারহানা হঠাৎ আসন থেকে উঠে আমার দিকে তেড়ে আসে এবং তার অনুসারীদের আক্রমণের জন্য হাত দিয়ে ইঙ্গিত দেয়। যা মিডিয়াতে এসেছে। পরবর্তীতে তারা আমাকে আক্রমণ করে এবং কিল-ঘুষি ও লাথি মারে। এ সময় আমার সঙ্গে থাকা বিজয়নগর উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী আমিনুল হক চৌধুরী এবং জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক শেখ মুস্তফা সুমন গুরুতরভাবে আহত হন। (ঘটনাটি নির্বাচন কমিশনের সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত আছে।)
এ অবস্থাতেও আমি পুনরায় ডায়াসের দিকে এগিয়ে এসে বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এ কর্তিত অংশের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে বিকৃতভাবে প্রচার করা হচ্ছে, যেখানে আমাকে আক্রমণকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ।
এছাড়া, রুমিন ফারহানা সম্প্রতি সময় টিভির একটি টকশোতে অভিযোগ করেছেন যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী এনসিপির নেতৃবৃন্দকে টাকা দিয়ে নিয়োগ করেছে। আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই এই অভিযোগ সম্পূর্ণ কাল্পনিক, অসত্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও আমাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার কৌশল হিসেবেই তিনি এই বক্তব্য দিয়েছেন।
দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে অখণ্ড বিজয়নগর রক্ষা হবে, ইনশাআল্লাহ। (খবর বিজ্ঞপ্তি’র)
Posted ১০:৪৮ পিএম | মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
dainiksarod | Pijush Kanti Acharya