শিরোনাম
সাংবাদিক লিয়াকত হোসেনের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী শুক্রবার দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবির রিজিয়ন কমান্ডারের মণ্ডপ পরিদর্শন বিজয়নগর সীমান্ত থেকে ১২ কোটি টাকার ভারতীয় স্মার্টফোনের ডিসপ্লে উদ্ধার গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে ছুরিকাঘাত করে দুই লাখ টাকা ছিনতাই যুক্তরাষ্ট্রে ইউনূসকে হেনস্তাকারীদের ছাড় দেয়া হবে না: জাহেদ উর রহমান ট্রেনের ভুয়া টিকেট বানিয়ে বিক্রি, কালোবাজারিকে দণ্ড রিয়াদে বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১২ গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে বিএনপি দেশের মানুষের সাথে গাদ্দারি করেছে: মামুনুল হক শঙ্খ-উলুধ্বনিতে মুখরিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মহালয়ায় শুরু শারদোৎসব আন্তঃপ্রজন্ম সহযোগিতায় প্রবীণদের আয়মূলক কাজে সম্পৃক্তির আহ্বান

গরিবের পাতেও থাকছে খেজুর

স্টাফ রিপোর্টার   প্রিন্ট
শনিবার, ১৬ মার্চ ২০২৪   সর্বশেষ আপডেট : 11:08 pm

গরিবের পাতেও থাকছে খেজুর

রহিমা খাতুন একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। পরিবারসহ তিনি থাকেন রাজধানীর মহাখালী এলাকার সাততলা বস্তিতে। ইফতারে খুব বেশি আয়োজন তিনি করেন না। তবে যেটুকু না হলেই নেই তা দিয়ে ইফতারি করেন পরিবারে সঙ্গে। তিনি জানান, ইফতারে ছোলা , মুড়ি , পেয়াজু আর শরবতের সঙ্গে খেজুর এবং জিলাপি রাখেন। তা দিয়েই প্রতিদিনের ইফতার চলছে।

সাততলা বস্তি এলাকার মানুষদের জন্য একটি বিস্তৃত কাঁচাবাজার আছে। এই বাজারে সবকিছুই মেলে। এখানে আমদানি করা ফলের দোকানে খেজুর বিক্রি হয়। এরকম দোকান আছে তিনটি। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা কেজি দামের খেজুর তাদের কাছে আছে। সর্বনিম্ন দামের খজুর হচ্ছে ২০০ টাকা। এই খেজুরই মোটামুটি এই এলাকার সবাই কেনে। এছাড়া কিছু কিছু বেশি দামের খেজুরও বিক্রি হচ্ছে তবে তা পরিমাণে কম।

খেজুরের দাম নিয়ে অনেকদিন ধরেই চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ইফতারের মুল কেন্দ্রবিন্দু খেজুরকে ঘিরেই। অনেকেই বলছেন, এতো দাম হলে খেজুর কিভাবে খাওয়া যাবে। আবার কেউ কেউ গরীব ও নিম্নআয়ের মানুষের কথাও চিন্তা করে অনেকে দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করছেন। তবে কম দামের হলেও গরিবের পাতেও থাকছে খেজুর।

সাততলা বস্তি এলাকার ফল ব্যবসায়ী মোতালেব জানান, রমজান মাত্র শুরু হলো। ২০০ টাকা কেজি দামের খেজুর মোটামুটি সবাই নেয়। এছাড়া মরিয়ম খেজুর, বড়ই খেজুর আছে। সেগুলা একটু কম চলে।

প্রতিদিন কেমন বিক্রি হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সবদিন বিক্রি হয় না। মনে করেন আজকে যে খেজুর নিচ্ছে সে তো কালকে নিব না, হয়তো দুইদিন পরে আবার নিবে। গড়ে প্রতিদিন ৫-১০ কেজি খেজুর বিক্রি হয়।’

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাততলা বস্তিতে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষের বসবাস। তারা সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ। ছোট ছোট টিনের ছাউনি দিয়ে অন্তত ১০ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি আছে এখানে।

ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালিয়ে দিনযাপন করেন মিজান। তার ঘর এই বস্তিতেই। সারাদিন এই এলাকায় রিকশা চালিয়ে বিকালে বাসায় ইফতার করেন পরিবারের সঙ্গে। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইফতারে বেশি কিছু খাওয়া হয় না। শরবত আর খেজুর হইলেই আমাদের চলে। তবে মাঝেমধ্যে একটু পেয়াজু, ছোলা মুড়ি খাওয়া হয়। রিকশার জমা দেওয়ার পর খুব একটা টাকা হাতে থাকে না। যা থাকে তা দিয়ে বাজার করি ঘরের জন্য। ওইটাই আসল। তারপর ইফতারি আর কি। কোন কোন দিন ইফতারে ভাত তরকারিও খাওয়া হয়।’

এই এলাকার ফল ব্যবসায়ী রমজান বলেন, ‘বড়ই খেজুর আর ২০০ টাকা দামের খেজুর বেশি চলে। অনেকেই নেয়। কেউ অল্প অল্প নেয়, কেউ এক কেজি করে নেয়, কয়েকদিন চলে।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার পরও বাজারে যখন খেজুরের দাম বেড়েই চলছিল, তখন পরিস্থিতি সামলাতে পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগের দিন বহুলব্যবহৃত দুই ধরনের খেজুরের দাম বেঁধে দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় । সাধারণ মানের খেজুর ১৫০-১৬৫ টাকা এবং জাইদি খেজুর ১৭০-১৮০ টাকা নির্ধারণ করে দেয় সরকার।

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে ১৫০ টাকা দরে খেজুর বিক্রি করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। একজন ফ্যামিলি কার্ডধারী ভোক্তা এক কেজি খেজুরের পাশপাশি সর্বোচ্চ দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল, এক কেজি চিনি কিনতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম রাখা হবে ১০০ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ৭০ টাকা ও মসুর ডাল ৬০ টাকা ও চাল ৩০ টাকায় বিক্রি করছে টিসিবি। কম মুল্যে পণ্য বিক্রির কারনে নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যেও দেখা গেছে কিছুটা স্বস্তি।

 

Facebook Comments Box

Posted ১১:০৮ পিএম | শনিবার, ১৬ মার্চ ২০২৪

The Daily Sarod |