শিরোনাম
রিয়াদে বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১২ গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে বিএনপি দেশের মানুষের সাথে গাদ্দারি করেছে: মামুনুল হক শঙ্খ-উলুধ্বনিতে মুখরিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মহালয়ায় শুরু শারদোৎসব আন্তঃপ্রজন্ম সহযোগিতায় প্রবীণদের আয়মূলক কাজে সম্পৃক্তির আহ্বান বিজয়নগরে পুলিশের পিকআপ ভ্যান খাদে পড়ে পুলিশ ও আসামিসহ আহত ৫ সৌদি আরবের ৩০ কেজির পার্সেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৯ কেজি! তিতাস ট্রেনের বুকিং ক্লার্ককে মারধরের অভিযোগ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর হাসপাতাল থেকে তিনদিনের নবজাতক চুরি ট্রেইনি অফিসার নিচ্ছে ওয়ান ব্যাংক সৌদির দুই বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় নিহত ৩

কসবায় মাদরাসা সুপারের দূর্নীতির সত্যতা পেয়েছে দুদক

কসবা প্রতিনিধি   প্রিন্ট
বুধবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯   সর্বশেষ আপডেট : 9:31 pm

কসবায় মাদরাসা সুপারের দূর্নীতির সত্যতা পেয়েছে দুদক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের কাঠেরপুল এলাকায় আজগর আলী দাখিল মাদরাসার সুপার মাে. আবদুর রহমান সরকার মানিকের বিরুদ্ধে দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণের অতিরিক্ত টাকা নেয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (০৩ ডিসম্বর) বিকেলে আটককৃত সুপারকে নিয়ে মাদরাসায় যান দুদক টিম। সেখানে গিয়ে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযােগের বিষয়গুলাে খতিয়ে দেখেন। ছাত্রীর শ্লীলতাহানীর অভিযােগে গ্রেফতার ও দূর্নীতি, অর্থ আত্মসাত ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক লেনদেনের অভিযােগ সহ ৬ মামলা হয়েছে সুপারের বিরুদ্ধে।

গত সােমবার (২ডিসম্বর) উপজেলা চেয়ারম্যান এডভােকেট রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ উল আলমের নিকট সুপারের বিরুদ্ধে অভিযােগ দেন বিক্ষুব্দ এলাকাবাসী। অভিযাগ পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান এডভােকেট রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া জীবন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওই মাদরাসায় যান। এক পর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নিজ ১০৬ নাম্বার কল করে সুপারের বিরুদ্ধে অভিযােগের বিষয়টি দুদককে অবহিত করেন।

আরও পড়ুনঃ সরাইলে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শিক্ষক করেন আল্ট্রাসনোগ্রাফি  

এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুদকের কুমিল্লা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (এডি) মাে. শফিকুল ইসলাম ও মাে.সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি তদন্ত টিম আসেন মাদরাসায়। প্রথম তারা এ বিষয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলেন। পর বিকেলপ তদন্ত টিম মাদরসায় যান। এ সময় উৎসুক ক্ষুব্দ জনতা মাদরাসা মাঠ অপেক্ষা করছিলাে এবং সুপারের বিচারের দাবিতে মিছিল করেন। কমিটি বিহীন প্রতিষ্ঠান চালনা, সভাপতির সই জাল করে টাকা উত্তােলন, নারী কেলেঙ্কারী, অবৈধ কাজের সাথে জড়িত সহ মাদ্রাসার ৫০টি গাছ বিক্রি করে টাকা আত্মসাতেরও সত্যতা খুঁজে পান তদন্ত টিম। এসময় মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতা সাবেক বিএনপি সাংসদ মিয়া আবদুল্লা ওয়াজেদের সাথে কথা বলেন দুদক টিম। তিনি জানান, বিগত প্রায় ১০ বছর যাবত তাঁর সাথে যােগাযােগ করেন না সুপার। অভিযােগের সত্যতা পাওয়ায় যাবতীয় কাগজপত্র জব্দ করে নিয়ে আসেন তদন্ত টিম এবং পুলিশের নিকট জমা দেন। সুপার আবদুর রহমানের বিরুদ্ধ অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযােগে ৬টি মামলা রুজু করেছেন ওই এলাকার অভিভাবক এবং মাদরাসার শিক্ষার্থীরা।

মামলার বাদিরা হলন, কুটি ইউনিয়নের রানিয়ারা গ্রামের আবদুর রহিম মিয়ার ছেলে অভিভাবক বাবুল মিয়া (৪৫), হুমায়ূন মিয়ার ছেলে সাবেক শিক্ষার্থী মাে.হাসান মিয়া(২০) এবং রানিয়ারা বিষ্ণুপুর গ্রামের মাজহারুল ভূঁইয়ার ছেলে ওমর ফারুক (২০), মাদরাসার শিক্ষকদের পক্ষে সহকারী সুপার মাে.শাহজাহান মিয়া। একই গ্রামের ওয়াহাব মিয়ার ছেলে জানু মিয়া (৫০) তার মেয়ের শ্লীলতাহানীর অভিযােগে একটি শ্লীলতাহানীর মামলা রুজু করেছেন।

উল্লখ্য, গত সােমবার অভিযুক্ত মাদরাসা সুপার আবদুর রহমান মানিকের বিরুদ্ধে অভিভাবক এবং এলাকাবাসী অভিযােগ দিয়ে তার বিরুদ্ধে বিক্ষােভ মিছিল করেন । ওই দিন বিকেলেই তাকে তার মাদরাসার অফিস কক্ষ অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

আরও পড়ুনঃ এবার সেই ডিউকের বিরুদ্ধে রাজমিস্ত্রীর টাকা পাওনার মামলা  

কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাে. রাশেদুল কাউছার ভূঁইয়া বলেন, পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণ অতিরিক্ত টাকা আদায়, নারী কেলেঙ্কারী, ১০ বছর কমিটি না করে সাবেক সভাপতির সই জাল করে টাকা আত্মসাৎ, সরকারি ৫০টি গাছ কেটে বিক্রি করা সহ অসংখ্য অভিযােগ তাঁর বিরুদ্ধে । তিনি বলেন, মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সার্বিক নির্দেশনায় এই উপজেলায় সকল প্রকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদ এবং উপজেলা প্রশাসন একযােগে শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে। এই উপজেলা হবে দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত উপজেলা।

কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ উল আলম বলেন, মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর আনিত অভিযােগর সত্যতা পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। মাদরাসা শিক্ষাবাের্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী এই মাদরাসার পরিচালনা কমিটি গঠন করা হব।
সহকারী সুপার মাে.শাহজাহান মিয়া ভারপ্রাপ্ত সুপার হিসেবে বর্তমান দায়িত্ব পরিচালনা করবে।

কসবা থানা অফিসার ইনচার্জ মােহাম্মদ লােকমান হােসেন জানান, অভিযুক্ত সুপার আবদুর রহমান মানিকের বিরুদ্ধে ওই এলাকার অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও মাদরাসার শিক্ষক ৬টি মামলা রুজু করেছেন। তবে ৫টি মামলা রেকর্ড করে আমরা দুদকের মহাপরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, অভিভাবক জানু মিয়ার রুজুু করা তার কন্যা ওই মাদরাসার শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানী মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানাে হয়েছে।

Facebook Comments Box

Posted ৯:২৭ পিএম | বুধবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯

The Daily Sarod |