শিরোনাম

আন্তঃপ্রজন্ম সংহতির ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠবে প্রবীণবান্ধব বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক   প্রিন্ট
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬   সর্বশেষ আপডেট : 4:37 pm

আন্তঃপ্রজন্ম সংহতির ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠবে প্রবীণবান্ধব বাংলাদেশ

সার্বিক সুরক্ষার বিষয়টি ক্রমে কমে যাওয়ায় একাকিত্বের নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন দেশের এক কোটি ৭০ লাখ ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিকের সিংহভাগই। কর্মহীন-আয়হীন ও উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া দরিদ্র প্রবীণদের মানবেতর জীবনযাপন থেকে রক্ষায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগও যৎসামান্য। মাত্র ২৩ লাখ প্রবীণ মাসে মাত্র ৬৫০ টাকা করে বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে। তবে, তাদের আয় নিরাপত্তার উন্নয়নে আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক)। উন্নয়ন সংস্থাটির নবীন-প্রবীণের আন্তঃপ্রজন্ম সংহতি সম্মিলনীতে উন্মোচিত হচ্ছে প্রবীণদের সুরক্ষা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার নতুন দিগন্ত।

জার্মান ইকনোমিক কো-অপারেশন (বিএমজেড) ও হেল্পএইজ জার্মানির সহযোগিতায় রিকের ‘ইমপ্রুভড ইনকাম সিকিউরিটি থ্রু স্ট্রেনদেনদ্ ইন্টারজেনারেশনাল গ্রুপস ফর ওল্ডার পিপল ইন বাংলাদেশ (আইএসআইজিওপি) শীর্ষক প্রকল্পটি রাজধানী ঢাকার খিলগাঁও থানা, নরসিংদীর সদর ও পলাশ উপজেলা এবং পিরোজপুর সদর উপজেলার অর্থনৈতিক-সামাজিক, স্বাস্থ্য ও নতুন নতুন উদীয়মান ঝুঁকিতে থাকা প্রবীণদের আয় নিরাপত্তার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত, দুর্যোগ ও জলবায়ু প্রশমনে প্রবীণের অন্তর্ভুক্তি এবং উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া প্রবীণ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতে নবীন-প্রবীণের আন্তঃপ্রজন্ম সংহতি গড়ে তুলছে। এক্ষেত্রে ওই চার এলাকার ১২টি করে ৪৮টি আন্তঃপ্রজন্ম স্বনির্ভর ক্লাবের ৫০ জন করে দুই হাজার ৪০০ জন নবীন-প্রবীণ সদস্য প্রবীণবান্ধব সমাজ গড়ে তুলতে অনবদ্য ভূমিকা রাখছেন। নবীন-প্রবীণের এই সম্মিলিত অগ্রযাত্রায় প্রবীণের মাঝে আসছে নতুন প্রাণের স্পন্দন, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রেরণা।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকার মোহাম্মদপুরে ওয়াইডব্লিউসিএ মিলনায়তনে প্রকল্পটির সমাপনী ও প্রবীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে কনসালটেশন সভায়
গত আড়াই বছরে এই কর্মসূচির আওতায় আন্তঃপ্রজন্ম সংহতির অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন ওই ক্লাবগুলো ও বিভিন্ন এনজিওসহ সমাজের নানা স্তরের প্রতিনিধিরা। বর্তমান আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জিং প্রেক্ষাপটে নবীন-প্রবীণের সংহতিতে জোর তাগিদ দিয়ে দেশজুড়ে কমিউনিটি-ভিত্তিক আন্তঃপ্রজন্ম স্বনির্ভর ক্লাব গঠন এবং প্রবীণদের সুরক্ষায় আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক সম্মিলিত প্রচেষ্টার যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন অংশগ্রহণকারীরা। একই সঙ্গে রিকের এই অভিনব ক্লাবগুলোকে টেকসই ও চালু রেখে প্রবীণবান্ধব সমাজ গঠনে সরকার, কমিউনিটি ও সচ্ছল-বিত্তবান নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

সভার সভাপতি আইএসআইজিওপি প্রকল্পের জাতীয় সমন্বয়কারী গবেষক তোফাজ্জল হোসেন মঞ্জু, বিশেষ অতিথি রিকের সহকারী পরিচালক আসনান খান, প্যানেল আলোচক খিলগাঁও আন্তঃপ্রজন্ম ক্লাব সমন্বয় কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমান ময়না এবং সঞ্চালক প্রকল্প সমন্বয়ক খন্দকার রিয়াজ হোসেন জানান, প্রকল্পটি শেষ হলেও সামাজিক পুঁজি গড়ে আন্তঃপ্রজন্ম ক্লাবগুলো চালিয়ে যাওয়া হবে।

প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ও শিখন: প্রকল্প পরবর্তী আন্তঃপ্রজন্ম উদ্যোগের ধারাবাহিকতা শীর্ষক মূল প্রবন্ধে তোফাজ্জল হোসেন মঞ্জু জানান, বিশেষত প্রবীণ নারীদের কার্যকর অংশগ্রহণের অনেকগুলো বাধা দূর, সরকারের সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণের হার বাড়ানোসহ নানা কাজে সফল প্রকল্পটির কার্যক্রম অব্যাহত রাখা গেলে প্রবীণবান্ধব সমাজ গঠনে সহায়ক হবে। এজন্য অক্টোবরে শেষ হওয়া প্রকল্পের ক্লাবগুলোকে কমিউনিটিকে হস্তান্তর করা হচ্ছে। স্থানীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রকল্প পরবর্তী কার্যক্রম টেকসই করা হবে।

রাষ্ট্রের কাছে প্রবীণবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো, বিনোদন, ডিজিটালাইজড কর্মসংস্থান, আয় বাড়ানো, পাঠাগার, বই ও পত্রিকা পাঠ, পরিবহন, আইনি ও পর্যাপ্ত আর্থিক সুবিধা, প্রবীণদের ডাটাবেজ তৈরিসহ গবেষণা ও তথ্যভান্ডার গড়ার দাবিও জানান তারা। নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রবীণও যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তৃণমূলের প্রতিনিধিরা বলেন, সমাজের সচ্ছলদের এগিয়ে আসাসহ যৌথ পরিবারের আদলে পারিবারিক সচেতনতাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর হবে।

কনসালটেশন সভার বিশেষ আলোচক সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (প্রতিষ্ঠান অধিশাখা) এম এম মাহামুদুল্লাহ জানান, সরকার পুরোনো ছয়টি বিভাগের ছয়টি জেলার ছয়টি ইউনিয়নে ওল্ডার পারসন ক্লাব (ওটিসি) গড়তে পাইলট প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য, প্রবীণ জনগোষ্ঠীর লংটাইম কেয়ার (এলটিসি) বা দীর্ঘমেয়াদি যত্ন। প্রবীণদের সুরক্ষায় রিকের আন্তঃপ্রজন্মভিত্তিক কার্যক্রমের অভিনবত্বের প্রশংসা করে তিনি জানান, নতুন সরকারি উদ্যোগটিও একই কল্যাণ বয়ে আনবে। পরিবারের জ্যেষ্ঠ নারী সদস্যের মাধ্যমে চার কোটি ১০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার সরকারি কার্যক্রম তুলে ধরে রিকসহ প্রবীণবান্ধব বাংলাদেশ গঠনে রিকসহ বেসরকারি সব উদ্যোগে সার্বিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সম্মানীয় অতিথি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সচিব ও এল্ডারলি কেয়ার ক্লাবের সভাপতি মো. সাইদুর রহমান করে বলেন, ৫০ লাখের মতো সমস্যাগ্রস্ত প্রবীণের পাশে সহায়তা করতে পারেন বাকি এক কোটি ২০ লাখ প্রবীণসহ দেশের ১১ কোটিরও বেশি সক্ষম ও সচ্ছল জনগোষ্ঠী। তাহলেই প্রবীণবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার যাবতীয় আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন সফলতা পাবে।

Facebook Comments Box

Posted ৪:৩৭ পিএম | সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

The Daily Sarod |