অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : 10:25 pm
কসবায় পিতা খোরশেদ আলম (৬০) কে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে মেয়ের বিরুদ্ধে। শুক্রবার ( ১৬ অক্টোবর) সকালের দিকে উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের কায়েমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসাপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহত খোরশেদ আলম ওই গ্রামের মৃত মুর্তুজ আলীর ছেলে। তবে নিহতের অভিযুক্ত মেয়ে ও স্ত্রীর দাবী অভিমান করে কেরির বড়ি খাওয়ায় তার বাবার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা অভিযুক্ত মেয়ে রাবেয়া আক্তার ও স্ত্রী নুরজাহান বেগমকে পুলিশ আটক করেছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার উপজেলার কায়েমপুর গ্রামের খোরশেদ মিয়া উত্তেজিত হয়ে তার একমাত্র মেয়ে দুই সন্তানের জননী রাবেয়া বেগমকে মারধর করতে থাকে। মেয়ে রাবেয়াও উত্তেজিত হয়ে একটি লাঠি দিয়ে তার বাবাকে উপুর্যপরি আঘাত করে। পরে মেয়ের লাঠির আঘাতে পিতা খোরশে মিয়ার মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠে। খবর পেয়ে বিকেলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
নিহতের মেয়ে অভিযুক্ত রাবেয়া বেগম জানায়, বিয়ের পর থেকে তার বাবা তাকে ভাল করে দেখতে পারতোনা। বেড়াতে আসলে তার সাথে দুর্ব্যবহার করতো। এরপরও বুধবার সে তার বাবার বাড়ি বেড়াতে আসে। শুক্রবার সকালের দিকে অনর্থক তার পিতা তার সাতে উগ্র আচরন শুরু করে। প্রতিবাদ করায় তার পিতা তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাথারী মারতে থাকে। এক পর্যায়ে সেও বাবার মার সহ্য করতে না পেরে একটি লাঠি দিয়ে তার বাবাকে কয়েকটি আঘাত করে। তখন তার পিতা তাকে আবারও মারার জন্য লাঠি আনতে গেলে ওই লাঠিতে লেগে তার হাত কেটে যায়। পরে লাঠি ফেলে দিয়ে চলে যায়।
কিছুক্ষন পর সে তার বাবার পায়ে ধরে ক্ষমা চায়। তার হাতের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। চিকিৎসা নেয়ার পর বাড়িতে এসে গোপনে অভিমানে কেরির বড়ি নামে বিষ পান করে ফেলে বাবা। টের পেয়ে বাড়ির লোকজনের সহযোগিতায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখানে তার পেটের বিষক্রিয়া ওয়াস করার পর তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। কুমিল্লা নেয়ার পথে তার পিতার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে কায়েমপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। রাবেয়া তার বাবাকে লাঠি দিয়ে আঘাতের কথা স্বীকার করে। পরে তার বাবার মৃত্যু হয় বলেও স্বীকার করে। এ ঘটনার সাথে মা মেয়ে দুজনই জড়িত থাকতে পারে বলে ধারনা করেন তিনি।
কসবা থানা অফিসার ইনচার্জ আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, খবর পেয়ে বিকেলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বিকেলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মা মেয়ে দুজনকেই আটক করা হয়েছে। এখনো কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
Posted ১০:২৫ পিএম | শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
The Daily Sarod | Pijush Kanti Acharya