অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : 7:54 pm
দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আর্দ্র আবহাওয়া ও মশা নিয়ন্ত্রণে অপর্যাপ্ত ব্যবস্থার কারণে ডেঙ্গু-পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেক গতি পেয়েছে৷ এর ফলে ২০২৩ সালে যে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল, সেরকম পরিস্থিতির আশঙ্কাও করছেন তারা৷
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, মে মাসের শেষে ডেঙ্গুতে মারা গিয়েছিলেন মাত্র একজন৷ কিন্তু জুন মাসের শেষে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৮৷ এ সময়ে ডেঙ্গুতে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি ছিল আরো উদ্বেগজনক৷ মে মাসের শেষে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৭১৪, জুন মাসের শেষে সেই সংখ্যা আট গুণেরও বেশি বেড়ে হয়ে যায় পাঁচ হাজার ৯২৪৷
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, জুলাই মাসে ঢাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা জুনের তুলনায় অন্তত দ্বিগুণ হবে বলে আমাদের ধারণা৷ আগস্ট নাগাদ তিন থেকে চার গুণও বেড়ে যেতে পারে৷ তার আশঙ্কা, তখন রাজধানীর বাইরের এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি সামলানোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে, কারণ, সেখানে (ঢাকার বাইরে) বেশ কয়েকটি জেলায় সংক্রমণের হার খুব দ্রুত বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে৷
২০২৩ সালে ডেঙ্গুর বিস্তার ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল৷ তিন লাখ ২১ হাজারেরও বেশি মানুষ সংক্রমিত এবং এক হাজার ৭০৫ জন প্রাণ হারিয়েছিল ডেঙ্গুতে৷ ২০২৪ সালে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন, ডেঙ্গুতে মারা যান ৫৭৫ জন৷গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগে ভুগেছেন এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন, ডেঙ্গুতে মারা যান ৪১৩ জন৷
চলতি বছর এমন এক সময়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে, যখন কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ৷ সরকারি হিসেব অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত দেশে এক লাখেরও বেশি ‘সন্দেহভাজন’ ও ১০ হাজারের বেশি নিশ্চিতভাবে হামে সংক্রমিত হয়েছেন৷ সরকারি হিসেব অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৭০০ ছাড়িয়েছে৷
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত, উষ্ণ তাপমাত্রা এবং উচ্চ আর্দ্রতা ডেঙ্গু বিস্তারের জন্য অনুকূল৷এ কারণে দেশে ডেঙ্গুর বিস্তার ত্বরাণ্বিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে৷ তিনি মনে করেন, ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়লেও এখনো তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম চালানো হয়নি৷
তাই সরকারের প্রতি মশা নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী আগাম সতর্কবার্তা-ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান অধ্যাপক কবিরুল বাশার৷ এর মাধ্যমে মশার প্রজনন ক্ষেত্র ও সংক্রমণের হটস্পটগুলো শনাক্ত করা যাবে, কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে এবং প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ পর্যায়ে যাওয়ার আগেই জনগণকে সতর্ক করা যাবে – এমন আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ বা সময় কিন্তু দ্রুত ফুরিয়ে আসছে৷
সূত্র: ডয়চে ভেলে
Posted ৭:৫৪ পিএম | বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
dainiksarod | Pijush Kanti Acharya