অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : 12:54 pm
ট্রেনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরের আঘাতে আয়কর আইনজীবীর চোখ হারানোর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফের ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে বাইরে থেকে ছোড়া পাথরের আঘাতে নাইমুল হাসান নামে এক যাত্রী আহত হয়েছেন। গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তার মাথায় ৫টি সেলাই দিতে হয়েছে।
গত বুধবার (২৪ জুন) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের আউটার এলাকায় পৈরতলার কাছে এ ঘটনা ঘটে। আহত নাইমুল হাসান ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত।
ভুক্তভোগী নাইমুল হাসান জানান, মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে প্রবেশের সময় তিনি নামার প্রস্তুতি নিয়ে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ বাইরে থেকে ছোড়া একটি পাথর তার মাথায় এসে লাগে। এতে সঙ্গে সঙ্গে মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে সহযাত্রীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকরা তার মাথায় ৫টি সেলাই দেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় যাত্রীদের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
রেলযাত্রীরা বলেন, সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথে নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা গেলে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
এব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ আলম বলেন, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপে এক যাত্রী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
উল্লেখ, গত সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী তূর্ণা এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর স্টেশন অতিক্রম করার সময় ট্রেনটিকে লক্ষ্য করে বাইরে থেকে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় একটি পাথর ট্রেনের জানালা ভেদ করে ভেতরে থাকা শ্যামল চন্দ্র দাস নামে এক আয়কর আইনজীবীর ডান চোখে আঘাত হানে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকাল থেকে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী অস্ত্রোপচার করা হলেও চিকিৎসকরা তার ক্ষতিগ্রস্ত চোখটি রক্ষা করতে পারেননি। পরবর্তীতে চোখটি অপসারণ করতে হয়।
Posted ১২:৫৪ পিএম | বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
dainiksarod | Pijush Kanti Acharya