আমেরিকা ও ইরান শান্তি চুক্তিতে রাজি হয়েছে। আগামী ১৯ জুন (শুক্রবার) সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তি সই হবে। গতকাল রোববার (১৪ জুন) গভীর রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ একথা ঘোষণা করেন। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “গভীর আলোচনার পর আমেরিকা এবং ইরানের শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।” তিনি জানান, দুই পক্ষই লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব এলাকায় সামরিক কার্যকলাপ বন্ধ করবে।
এর কিছুক্ষণ পরেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সামাজিক মাধ্যমে শান্তি চুক্তির কথা ঘোষণা করেন। তিনি সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে ট্রাম্প লেখেন, বিনা শুল্কে হরমুজ প্রণালী যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, মার্কিন নৌসেনা ওই অঞ্চল থেকে তাদের অবরোধ সরিয়ে নেবে।
অন্যদিকে, একটি বিবৃতিতে ইরানও এই চুক্তির কথা জানায়।
ইরানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি জানান, এই চুক্তির ফলে ইরান এবং লেবাননে সামরিক আক্রমণ বন্ধ হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীও খুলে দেওয়া হবে। ইরানের টিভি চ্যানেলে তিনি বলেন, লেবাননসহ ওই অঞ্চলে অবিলম্বে এবং স্থায়ী ভাবে এই যুদ্ধ বন্ধ হবে।
জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইটালিসহ অন্যান্য দেশও এই চুক্তির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস বলেন, ইরান এবং অ্যামেরিকার এই চুক্তি কূটনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়াও বিশ্বের অর্থনীতি ফের চাঙ্গা হওয়ার পথে এগোবে বলে মনে করেন তিনি।
একটি যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যর প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার জানান, যুদ্ধ থামাতে এটি একটি সদর্থক পদক্ষেপ। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে এর ভালো প্রভাব পড়বে বলেও জানান তিনি।
তবে শুক্রবারের আগে হরমুজ প্রণালী খুলবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সূত্র: ডয়চে ভেলে