সড়ক দুর্ঘটনায় নয়, ছিনতাইকারিদের কবলে পড়ে খুন হন জাহানার বেগম

অনলাইন ডেস্ক   প্রিন্ট
বুধবার, ২০ মে ২০২৬   সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৩ অপরাহ্ণ

সড়ক দুর্ঘটনায় নয়, ছিনতাইকারিদের কবলে পড়ে খুন হন জাহানার বেগম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামের বাসিন্দা জাহানারা বেগম সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাননি। তিনি ছিনতাইকারিদের হাতে খুন হয়েছেন। হত্যার পর সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে তাকে ফেলে দেওয়া। সিসি টিভির ফুটেজ থেকে ওই সিএনজি সনাক্ত করার পরই ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এ ঘটনায় একাধিক অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জব্দ করা হয়েছে হত্যার কাজে ব্যবহৃত ছুরি। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুরের শাহজাহান মিয়ার মেয়ে রিমা আক্তার, বিরাসারের হিলু মিয়ার মেয়ে মো. বাদশাহ, নরসিংসারের তাজুল ইসলামের ছেলে জোবায়ের হোসেন হৃদয় ও আশুগঞ্জ উপজেলার ভবানীপুরের শফিকুর রহমানের ছেলে মো. শরীফ উদ্দিন। জেলা পুলিশের মিডিয়া উইং বুধবার বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ জানায়, ১৪ মে পৌর এলাকার কুমারশীল মোড় থেকে সিএনজি অটোরিকশায় উঠেন জাহানারা বেগম। আশুগঞ্জ যাওয়ার পথে তাকে ছুরিকাঘাত করে অষ্ট্রগ্রাম এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জাহানারা বেগমের ছেলে জায়েদুর রহমান খান ইমন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় তার মাকে হত্যার অভিযোগ করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
এদিকে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় ব্যবহৃত সিএনজির পিছনে ‘মা বাবার দোয়া আয়াত পরিবহন’ লেখা সংবলিত তথ্য সংগ্রহ করে। এর সূত্র ধরে ১৮ মে সদর থানাধীন ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার সিএনজি গ্যারেজ থেকে এটি জব্দ করে ও এর চালক বাদশা মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
বাদশার স্বীকারোক্তি অনুযায়ি উত্তর পৈরতলা এলাকার ভাড়া বাসা থেকে খুনের ঘটনার অপর সহযোগী মো. শরীফ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত দু’টি ছুরি উদ্ধার করা হয়। আসামি শরীফ উদ্দিনের স্বীকারোক্তি মতে রিমা আক্তারকে সুলতানপুর এলাকার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। রিমার কাছে জাহানারা বেগমের একটি সেলোয়ার, একটি টি উড়না ও এক জোড়া জুতা পাওয়া যায়। রিমা আক্তারের  উদ্ধার করা হয়। অতঃপর আসামি রিমা আক্তার এর স্বীকারোক্তি মোতাবেক তার বান্ধবীর বাসা থেকে আরো দু’টি উড়না, একটি কামিজ ও একটি সেলোয়ার উদ্ধার করা হয়। শরীফ উদ্দিনের স্বীকারোক্তি মতে জোবায়ের হোসেনের একটি রক্তমাখা জিন্স প্যান্ট, যেটি খুনের সময় পড়েছিলো সেটি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, ঘটনার দিন জাহানারা বেগমকে সংঘবদ্ধ চক্রটি সিএনজি অটোরিকশায় উঠান। সংঘবদ্ধ চক্রটি ছিনতাই করার চেষ্টা করলে জাহানারা বেগম বাধা দেন। এক পর্যায়ে ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
Facebook Comments Box

Posted ৮:৫৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২০ মে ২০২৬

dainiksarod |