অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : 8:42 pm
ধূমপান যে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এ কথা সবারই জানা। এটি ক্যান্সার, শ্বাসকষ্ট বা সিওপিডির মতো নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ধূমপান স্মৃতিশক্তির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, সিগারেটের নিকোটিন শরীরে ঢোকার পর ফুসফুসের কিছু বিশেষ কোষকে প্রভাবিত করে যেগুলোকে পালমোনারি নিউরোএন্ডোক্রাইন সেলস (PNECs) বলা হয়। এই কোষগুলো ফুসফুস ও মস্তিষ্কের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে ভূমিকা রাখে। নিকোটিন এদের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত করে।
ফলে মস্তিষ্কে ভুল সংকেত পাঠানো শুরু হয়। এর কারণে মস্তিষ্কে প্রদাহ তৈরি হতে পারে এবং স্নায়ুকোষ বা নিউরোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
নিকোটিনের প্রভাবে এই কোষগুলো ‘এক্সোসোম’ নামে ক্ষুদ্র কণিকা ছাড়ে, যা মস্তিষ্কে গিয়ে আয়রনের ভারসাম্য নষ্ট করে। এতে নিউরোনে চাপ বাড়ে, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। এই প্রক্রিয়াগুলো ডিমেনশিয়া ও অন্যান্য স্নায়বিক রোগের সঙ্গে জড়িত।
কখন বোঝা যায়?
এই ক্ষতি একদিনে ধরা পড়ে না। দীর্ঘদিন ধূমপানের ফলে ধীরে ধীরে সমস্যা বাড়ে এবং অনেক বছর পর ডিমেনশিয়ার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। গবেষকরা বলছেন, শুধু বেশি ধূমপান নয় অল্প পরিমাণ নিকোটিনও এই প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে।
গবেষণায় আরো একটি বিষয় সামনে এসেছে যাকে বলা হচ্ছে ‘লাং-ব্রেন অ্যাক্সিস’। অর্থাৎ ফুসফুস ও মস্তিষ্কের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক। এতে বোঝা যায় ধূমপান শুধু ফুসফুস নয়, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
Posted ৮:৪২ পিএম | শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
The Daily Sarod | Pijush Kanti Acharya