ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা প্রতিনিধি
প্রিন্ট
রবিবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট : 7:44 pm
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দিনমজুরের সাথে প্রতারণা করে আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় দুই নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৪ জানুয়ারি) তাদেরকে আদালতে পাঠায় সদর মডেল থানা পুলিশ। এরআগে, শুক্রবার রাতে তাদেরকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মূলে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, শহরের পুনিয়াউট এলাকার মৃত ফখরুল ইসলামের মেয়ে সুমি আক্তার (৪৫), তার বোন রুবি আক্তার (৪২) ও উলচাপাড়ার মৃত গফুর মিয়ার ছেলে আল আমিন (৫২)।
মামলার এজহার ও তদন্ত রিপোর্ট সুত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের উলচাপাড়ার টুকু মিয়ার ছেলে জুবাইদ মিয়া ছিলেন একজন রাজমিস্ত্রী। তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে কোর্ট ম্যারেজ করে কালিসীমা গ্রামের ওয়াসিম মিয়ার মেয়ে বর্ষা আক্তার বৃষ্টি। বর্ষা আক্তার একজন মাদক মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ী তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। সে তার প্রথম স্বামী মামুনকে তালাক দিয়ে জুবাইদকে বিয়ে বিয়ে করে। কিন্তু বিষয়টি জুবাইদের কাছে গোপন করে বর্ষা। কোর্ট ম্যারেজের পর ভয়ভীতি দেখিয়ে জুবাইদের বাড়িতে উঠে বর্ষা। জুবাইদকে বিয়ে করার পর বর্ষা তার প্রথম স্বামী মামুনের সাথে পুনরায় সম্পর্ক গড়ে তুলে। এরকিছু দিন পর জুবাইদকে নিয়ে ভাড়া বাসায় চলে যায় বর্ষা। সেখানে অবাধ মেলামেশা শুরু করে বর্ষা ও তার প্রথম স্বামী মামুন। তারা পরিকল্পনা করে জুবাইদের বাবাকে চাপ প্রয়োগ করে সাড়ে চার লাখ টাকা আদায় করেন। বেপরোয়া হয়ে উঠেন বর্ষা ও তার প্রথম স্বামী মামুন। শারীরিক মেলামেশার পাশাপাশি তারা বাসায় মাদক সেবন ও ব্যবসা করে যাচ্ছিলেন। এর প্রতিবাদ করলে জুবাইদকে ফাঁস দিয়ে বা বিষ খেয়ে আত্মহত্যার করার জন্যে ধমকি দিয়ে প্ররোচিত করতো বর্ষা ও মামুন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে মামুনের সাথে শারীরিক সম্পর্কের অবস্থায় বৃষ্টিকে দেখে জুবাইদ। এই অবস্থায় জুবাইদ প্রতিবাদ করলে বৃষ্টি তার হাতে কেডির বড়ি দিয়ে আত্মহত্যার জন্যে প্ররোচিত করে। জুবাইদ তা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ফেলে বর্ষা ও তার সহযোগিতারা পালিয়ে যায়। এরকিছুক্ষণ পর জুবাইদ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এই ঘটনায় থানা থেকে প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর জুবাইদের বাবা টুকু মিয়া আত্মহত্যার প্ররোচিত করে হত্যার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বর্ষা ও তার প্রথম স্বামী মামুনসহ ৫জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এই মামলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে আদেশ দেয় আদালত। মামলার তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেতে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। পরে আদালত ৫জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মূলে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রধান আসামী বর্ষা ও তার প্রথম স্বামী মামুনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন জানান, তিন আসামীকে আদালতে পাঠানো হয়, সেখান থেকে আদালত জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
Posted ৭:৪৪ পিএম | রবিবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৫
dainiksarod | Pijush Kanti Acharya