শিরোনাম
রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার নিচ্ছে প্রাণ গ্রুপ প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত সুইস ব্যাংকে এক বছরে ৪১ শতাংশ আমানত বৃদ্ধি বাংলাদেশিদের মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন আল রশীদ বিজয়নগরে দেড় কোটি টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে উদ্ধার বর্ষীয়ান নেতা হারুন-আল-রশিদের মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির শোক সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুণ আল রশীদ আর নেই কসবায় বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি এবার অনুসন্ধানী সাংবাদিকের চরিত্রে অভিনেতা অপূর্ব

সুইস ব্যাংকে এক বছরে ৪১ শতাংশ আমানত বৃদ্ধি বাংলাদেশিদের

অনলাইন ডেস্ক   প্রিন্ট
রবিবার, ২১ জুন ২০২৬   সর্বশেষ আপডেট : 7:40 pm

সুইস ব্যাংকে এক বছরে ৪১ শতাংশ আমানত বৃদ্ধি বাংলাদেশিদের

২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়ে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ ৬০ হাজার সুইস ফ্রাঁ বা প্রায় ১২ হাজার ৭৫১ কোটি টাকায় পৌঁছেছে৷ ২০২৪ সালে সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা প্রায় ৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকা৷ তা ছিল সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আগের তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ আমানত৷

সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক প্রতি বছর আমানতের তথ্য প্রকাশ করে৷ ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড’ ক্যাটাগরির আওতায় দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিক, বাসিন্দা বা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সব ধরনের মুদ্রায় রাখা আমানত পর্যবেক্ষণ করে৷

তবে প্রতিবেদনে আমানতকারীর ধরন বা কোন উদ্দেশ্যে আমানত রাখা হয়েছে, তা আলাদা করে দেখানো হয় না৷

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো ঐতিহাসিকভাবে আর্থিক গোপনীয়তার জন্য পরিচিত৷ তবে সম্প্রতি কিছু সংস্কার আনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে ব্যাংকগুলোর স্বচ্ছতা ও সহযোগিতা বেড়েছে৷

২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত সাধারণত ৪৮ কোটি থেকে ৬৬ কোটি ফ্রাঁর মধ্যে সীমিত ছিল৷

২০২৩ সালে আমানতের পরিমাণ কমে রেকর্ড সর্বনিম্ন ১ কোটি ৭৭ লাখ ফ্রাঁতে ঠেকে৷ ২০২৪ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের আমানত এক লাফে ৩৩ গুণ বেড়ে যায়৷

অবৈধ আর্থিক প্রবাহের ওপর বৈশ্বিক নজরদারি বৃদ্ধির কারণে ২০২১ সালে করোনা-পরবর্তী সময়ে সর্বোচ্চ ৮৭ কোটি ১০ লাখ ফ্রাঁতে পৌঁছানোর পর ২০২২ সালে আমানত হঠাৎ কমে যায়৷

দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানের আমানতের পরিমাণ কমেছে৷ ভারতের আমানত কমে দাঁড়ায় ৩২ কোটি ৩১ লাখ সুইস ফ্রাঁ ও পাকিস্তানের আমানত কমে দাঁড়ায় ২৩ কোটি ৬৩ লাখ ফ্রাঁ৷
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত বাংলাদেশের আর্থিক খাত সংক্রান্ত শ্বেতপত্র অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মোট ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে৷

সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অর্থ সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, হংকং, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভারতে অথবা এসব দেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে পাচার করা হয়েছে৷

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-র ডিসটিংগুইশড ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘‘সুইস ব্যাংকগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অ্যাকাউন্ট থাকে৷ এর মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নস্ট্রো অ্যাকাউন্ট ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের আমানত ছাড়াও বাংলাদেশিদের অবৈধ অর্থ থাকতে পারে৷ তাই সুনির্দিষ্টভাবে বলা যায় না যে সেখানে আমানত বৃদ্ধির কারণ শুধু পাচার করা অর্থ৷”

তবে তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে সুইস ব্যাংকগুলোর কাছে তথ্য চাইতে পারে৷

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা খুবই জটিল ও কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘বিশ্বব্যাপী পাচার অর্থ উদ্ধারের হার মাত্র ২ শতাংশের মতো৷ তা সত্ত্বেও প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, কারণ, এতে অন্তত জড়িতদের ওপর চাপ তৈরি হয়৷”

Facebook Comments Box

Posted ৭:৪০ পিএম | রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

dainiksarod |