অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : 10:35 am
চাঁদের কক্ষপথ ছুঁয়ে প্রায় ১০ দিনের ঐতিহাসিক মহাকাশযাত্রা শেষে পৃথিবীতে ফিরেছেন নাসার আর্টেমিস–২ মিশনের চার নভোচারী। তবে এ ফেরা শুধুই বৈজ্ঞানিক সাফল্যের গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ অপেক্ষা, পরিবারের ভালোবাসা আর পৃথিবীতে ফিরে আসার রোমাঞ্চকর সব স্মৃতির গল্প। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) প্রশান্ত মহাসাগরে সফল অবতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় মিশনটি। এদিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় সময় বিকেল ৫টা ৭ মিনিটে ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের কাছে প্যারাসুটের সাহায্যে অবতরণ করে নভোচারীদের বহনকারী ওরিয়ন ক্যাপসুল। পরে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করে উদ্ধারকারী দল।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তারা এখন সুস্থ আছেন, যদিও দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকার কারণে হাঁটা-চলায় কিছুটা অসুবিধা দেখা গেছে। তবুও সবার চোখে-মুখে ছিল এক ধরনের স্বস্তি—পৃথিবীতে ফেরার স্বস্তি, আপনজনের কাছে ফেরার স্বস্তি।
তবে সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসে পরিবারের সঙ্গে চার নভোচারীর পুনর্মিলনের সময়। দীর্ঘদিন পর স্বামী, স্ত্রী, সন্তানদের কাছে পেয়ে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি তারা। কারও সন্তান দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরেছে, কোথাও আবার নীরব আলিঙ্গনে প্রকাশ পেয়েছে গভীর ভালোবাসা।
এদিকে, মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান ফিরে এসে প্রথমেই তার দুই কন্যাকে বুকে জড়িয়ে নেন। মহাকাশে থাকাকালীনও তিনি বারবার তাদের কথা বলেছেন, পাঠিয়েছেন ভালোবাসার বার্তা। একইভাবে চার সন্তানের জনক ভিক্টর গ্লোভার মহাকাশ থেকেই সন্তানদের স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছিলেন, বলেছিলেন মহাকাশের বিস্ময়কর সব মুহূর্তের কথাও। পৃথিবীতে ফিরে তাদের সঙ্গে তার পুনর্মিলন ছিল সীমাহীন আনন্দ এবং আবেগের এক অনন্য মুহূর্ত।
অন্যদিকে, ক্রিস্টিনা কচের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার আবেগঘন পূর্ণমিলনের দৃশ্য সবার মন ছুঁয়েছে। এছাড়া কানাডার প্রতিনিধি জেরেমি হ্যানসনের সন্তান ও পরিবারের সঙ্গে তার মিলিত হওয়ার দৃশ্যও ছিল দেখার মতো।
আর্টেমিস–২ এর চার নভোচারীর এ ঐতিহাসিক মিশন ভবিষ্যতের চাঁদ ও মঙ্গল অভিযানের পথ আরও সুগম করে দিয়েছে। চাঁদের কক্ষপথ ছুঁয়ে দীর্ঘ যাত্রা শেষে তাদের পৃথিবীতে ফেরা শুধু একটি মিশনের সমাপ্তি নয়, বরং মানব ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা।
বিজ্ঞানের এ সাফল্যের ভেতরে রয়েছে মানুষের সাহস, ধৈর্য এবং সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছাশক্তি-যা ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানে নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
Posted ১০:৩৫ এএম | মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
dainiksarod | Pijush Kanti Acharya