“হ্যাঁ” এর পক্ষে ভোট দেওয়া মানে হচ্ছে আজাদীর পক্ষে ভোট দেওয়া, দুর্নীতিকে না বলা ও গোলামীকে প্রত্যাখ্যান করা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
গতকাল শুক্রবার ( ৩০ জানুয়ারি) বিকালে কসবার তফজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজ মাঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আতাউর রহমান সরকারের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি সোশাল মিডিয়াতে কোন কোন দলের লোকেরা এখন না তে ভোট দিতে বলতেছে। ‘না’ তে যারা ভোট দিতে চায় তারা বাংলাদেশে আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়।
এসময় তিনি আরও বলেন, যারা ভোটের আগে চাঁদাবাজী করে, ক্ষমতা দখলের জন্য মানুষ খুন করে তারা এখন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেয়। তাদের এসব মুখরোচক বলি আপনারা বিশ্বাস করবেন না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালোটের মাধ্যমে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
তিনি বলেন, সকলের মুখে এখন একটি আওয়াজ আমরা পরিবর্তন চাই। যারা স্বাধীনতার পর ৫৪ বছর এই দেশ শাসন করেছে তাদের প্রত্যেকের শাসনামলে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ছিলো। তারা দমন পীড়নসহ আমাদের জাতিসত্তাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, তাদের শাসনামলে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ভিন্ন মতের মানুষের দমন-পীড়ন চালিয়ে হাজার হাজার মামলা দিয়ে হয়রানী করেছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে নিয়ে আমাদের বর্ষিয়ান প্রিয় নেতাদের ফাঁসি ঝুলিয়ে হত্যা করেছে। ৫৪ বছর যারা আমাদের এই প্রিয় জন্মভূমিকে অগ্রসর হতে দেয়নি তাদেরকে কি আবারও ক্ষমতা হাতে তুলে দেয়া যায়?
তিনি আরও বলেন, জনগনের ভালবাসা নিয়ে ডাঃ শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়বো। আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি তাহলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কসবা – আখাউড়াবাসীর সকল সমস্যা নিরসনে কাজ করবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি এই আসনের প্রার্থী মোঃ আতাউর রহমান সরকারকে এবং এই জেলায় অন্যান্য আসনে ১১ দলীয় জোট প্রার্থীদেরকে বিপুল পরিমাণ ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহবান জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক কাজী সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, কসবা-আখাউড়া আসনে জামায়াত ইসলাম মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য মোঃ আতাউর রহমান সরকার, জেলা জামায়াতে আমীর মাওলানা মোবারক হোসেন আকন্দ, আখাউড়া উপজেলা জামায়াতের আমীর ইকবাল হোসেন ভুইয়া, জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা বোরহান উদ্দিন খান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপজেলা জামায়াত ইসলামের আমির অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহাম্মদ, নায়েব আমির মাওলানা শিবলী নোমানী ও সেক্রেটারি গোলাম সরোয়ারসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাঞ্ছারামপুরেও জামায়াতের নির্বাচনী সমাবেশ
শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যার বিচার বর্তমান অন্তর্র্বতী সরকার না করলে এবং দেশ সহিংস হয়ে উঠলে নির্বাচন নিরপেক্ষ-অবাধ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। গতকাল শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মাওলাগঞ্জ বাজার মাঠে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, শেরপুরে জামায়াতে ইসলামীর যে নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, বিএনপির সন্ত্রাসীরা তার ওপর নিষ্ঠুরভাবে হামলা করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রকাশ্য প্রচারিভিযানের প্রথম হত্যাকাণ্ডের বিচার এই সরকারকে করতে হবে। খুনীদেরকে গ্রেপ্তার করতে হবে, আর যেন জামায়াতে ইসলামীসহ কোনো দলের প্রার্থীদের ওপর হামলা করা না হয়। সেটা নিশ্চিত না করলে, দেশ যদি সহিংস হয়ে উঠে; এই নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না। ভোটকেন্দ্রে তারা সন্ত্রাস করবে।
তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা দেখতে পাচ্ছি বিএনপির কোনো কোনো নেতা বক্তব্য দিচ্ছেন দাড়িপাল্লার কাজ করার জন্য মহিলারা যদি কোনো বাড়িতে যায়, তাদের কাপড়চোপড় খুলে নিবে। তাদের ওপর হামলা করছে, গায়ে হাত তুলছে। যারা নির্বাচনের আগের নারীদের গায়ে হাত তুলে, তাদের কাপড় খুলে নিতে চায়; ক্ষমতায় গেলে তারা এদেশের কী আচরণ করবে!
তিনি আরও বলেন, তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যদি আমাদের নেতাদের হত্যা করে, চাঁদাবাজি করে; তাহলে ক্ষমতায় গেলে তাদের কাছে আমাদের হিন্দু-মুসলিম কারও জানমাল নিরাপদ থাকবে না। নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য দাড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে হবে।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আবুল বাশারের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোবারক হোসেন, সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. মহসিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী আমজাদ হোসেন আশরাফী প্রমুখ।