অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : 9:57 pm
দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশে৷ ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালির দাবানল উপদ্রুত এলাকা থেকে সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে৷ সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ ইউরোপ এ বছর তিনটি তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছে৷ ইতিমধ্যে দাবানলে পুড়ে যাওয়া মোট জমির পরিমাণ গত দুই দশকের বার্ষিক গড়কেও ছাড়িয়ে গেছে।
ইউরোপের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা আবার ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত ওঠার পূর্বাভাস রয়েছে৷
ফ্রান্সের এক শহরে পুড়েছে দুই হাজার হেক্টর জমি
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বোর্দো শহরে ছড়িয়ে পড়ছে দাবানল৷ শহরের ২,০০০ হেক্টর এলাকা ইতিমধ্যে পুড়ে গেছে৷ আগুন থেকে বাঁচাতে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ৷
পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ আর্কাকন বে’র কাছাকাছি পৌঁছে গেছে দাবানল৷ ফলে স্থানীয়দের পাশাপাশি অনেক পর্যটককেও সরিয়ে নেয়া হয়েছে৷
দাবানলের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫০০ দমকলকর্মী ব্যস্ত সময় পার করছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাবানলের কারণে পরিস্থিতি খুব ভয়াবহ হলেও এখন পর্যন্ত কেউ হতাহত হননি।
তবে গত মঙ্গলবার বোর্দো বিমানবন্দরের কাছে দাবানলের আগুন নেভানোর সময় দুজন দমকলকর্মী প্রাণ হারান।
স্পেনে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তা
গতকাল বুধবার মাদ্রিদের দক্ষিণাঞ্চলের তোলেদো শহরের আশপাশের কয়েকটি এলাকা থেকে সবাইকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ৷ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ মাদ্রিদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুয়াদালাজারার দাবানল-উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করেছেন৷ ওই এলাকায় ৩০টিরও বেশি গ্রাম থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শনের সময় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী স্যানচেজ বলেন, ‘‘জলবায়ু পরিবর্তন কিভাবে প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে, সম্পদ ধ্বংস করছে তা আমরা বছরের পর বছর ধরে স্পষ্টভাবে দেখছি৷ এটা রাজনীতি নয়; এটা বিজ্ঞান, এটা বাস্তব তথ্যের বিষয়।”
ইটালিতে ইচ্ছা করে আগুন লাগানোর সন্দেহ
ইতালির সিসিলিতে দাবানল চলছে বেশ কয়েক দিন ধরে ৷ প্রায় ছয় হাজার দমকলকর্মী, বনরক্ষী ও বেসামরিক সুরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাকে সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে সেই অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট রেনাতো শিফানি জানিয়েছেন, বিমান থেকে পানি-বোমা নিক্ষেপ করার পরও প্রায় ৫০টি স্থানে আগুন জ্বলছে।
এছাড়া ইতালির মূল ভূখণ্ডের কালাব্রিয়া অঞ্চলে ১৬০টিরও বেশি আগুনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। কালাব্রিয়ার স্থানীয় কর্মকর্তারা অবশ্য মনে করছেন, সেখানে আগুন লাগার জন্য ‘দুষ্ট প্রকৃতির ব্যক্তিরা’ দায়ী৷ সেরকম কিছু মানুষ ইচ্ছা করে আগুন লাগিয়েছে বলে মনে করেন তারা৷ কয়েক জায়গায় দাহ্য তরলে ভেজানো কিছু ন্যাকড়া পাওয়া গেছে৷ কর্মকর্তারা বলছেন, আগুন ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই ন্যাকড়া ভবঘুরে বিড়ালের লেজে বেঁধে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে৷
সূত্র: ডয়চে ভেলে
Posted ৯:৫৬ পিএম | বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
The Daily Sarod | Pijush Kanti Acharya