অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : 5:06 pm
আশুগঞ্জে তিনটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময় ও মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার পর অব্যয়িত প্রায় ৬৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যবহৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কাটাখালী থেকে ভবানীপুর এবং আড়াইসিধা ইউনিয়নের ভবানীপুর থেকে দগরীসার ও দগরীসার থেকে লাউয়াসার পর্যন্ত মোট সাড়ে ৬ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ১ কোটি ৬৪ লাখ ৯১ হাজার ৯২৩ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় খাল পুনঃখননের পাশাপাশি দুই তীরে প্রায় দেড় হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এর ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বর্ষায় জলাবদ্ধতা নিরসন এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
তবে বরাদ্দের পুরো অর্থ ব্যয় না করেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়। শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি, পরিবহনসহ সব ধরনের ব্যয় মিটিয়ে মোট প্রায় ১ কোটি ১ লাখ টাকা খরচ হয়। অবশিষ্ট প্রায় ৬৪ লাখ টাকা সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে মঙ্গলবার সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটির বাস্তবায়নকালে নিয়মিত তদারকি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া। তিনি একাধিকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের গুণগত মান, ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আলমাস উদ্দিন জানিয়েছেন , শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কঠোর নজরদারি ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার ফলেই কাজের মান অক্ষুণ্ন রেখে সরকারি অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।
প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহজাহান সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আড়াইসিধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সায়েম মিঠুর ভাষ্য , সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। ইউএনও সততা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়েছেন, সঠিক তদারকি থাকলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বললেন, সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। কাজের মান বজায় রেখে অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং অন্য উপজেলাগুলোর জন্যও অনুসরণীয় হতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফে মোহাম্মদ ছড়া বললেন, “সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় ব্যয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা হয়েছে। কাজ শেষে যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, সরকারি বিধি অনুযায়ী তা কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বললেন, “সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম শর্ত হলো সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার। ভবিষ্যতেও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।”
Posted ৫:০৬ পিএম | মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
The Daily Sarod | Pijush Kanti Acharya