অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : 7:26 pm
দেশের মোট জনসংখ্যার এক দশমাংশ বা এক কোটি ৬০ লাখ ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা ২০৫০ সাল নাগাদ বেড়ে ২০ শতাংশেরও বেশি বা পাঁচ কোটিতে দাঁড়াবে। এদিকে সারা বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশে গত ২৫ বছরে মানুষের গড় আয়ু সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধিতে এখনকার ৭৪.৯ বছরে থেকে ৮০ বছর বা তার কাছাকাছি পৌঁছাবে। এত বেশি সংখ্যক দীর্ঘ ও দীর্ঘায়ু জীবনকে কেবল সংখ্যা বা বয়স বৃদ্ধির পর্যায় হিসেবে না দেখে, একে স্বাস্থ্যবান, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ সামাজিক সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান জানানো হয়েছে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের মানববন্ধন, শোভাযাত্রা, নাগরিক সমাজের সঙ্গে পরামর্শ সভা এবং পট গানের আসরে।
১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে উদযাপিত আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’। প্রবীণ তথা দীর্ঘ জীবন লাভ করা নাগরিকদের নতুন বাস্তবতার সঙ্গে প্রবীণদের জন্য বিদ্যমান সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক তথা কাজের সুযোগ, আয়, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা, দৈনন্দিন পরিচর্যা, বাসস্থান এবং সামাজিক অংশগ্রহণের ব্যবস্থাকে নতুনভাবে ভাবার লক্ষ্যে সোমবার (৫ অক্টোবর) এসব আয়োজন করা হয়। যৌথভাবে অনুষ্ঠানমালার আয়োজক ছিল রিসোর্স ইন্টিগ্রেশন সেন্টার (রিক) ও ফোরাম ফর দ্য রাইটস অব দ্য এল্ডারলি, বাংলাদেশ (এফআরইবি)।
সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নবীন-প্রবীণের মানববন্ধন শেষে শোভাযাত্রা বের হয়ে সিরডাপ মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে পরামর্শ সভায় সভাপতিত্ব করেন রিকের নির্বাহী পরিচালক আবুল হাসিব খান। প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. সাঈদুর রহমান এবং নারী প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নারী অধিকার কর্মী ডা. হালিদা হানুম আখতার। বিশেষ আলোচক ছিলেন এফআরইবি ‘র সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) জীবন কানাই দাস।
সভায় দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য ভিত্তিক কি-নোট উপস্থাপন করেন রিকের ‘ইমপ্রুভড ইনকাম সিকিউরিটি থ্রু স্ট্রেনদেনদ্ ইন্টারজেনারেশনাল গ্রুপস ফর ওল্ডার পিপল ইন বাংলাদেশ (আইএসআইজিওপি) প্রকল্পের জাতীয় সমন্বয়কারী গবেষক তোফাজ্জল হোসেন মঞ্জু। দিনভর আয়োজনে আরো অংশ নেন নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন, এফআরইব ‘র বীর মুক্তিযোদ্ধা কে এম সিদ্দিক আলী, ঢাকা আহসানিয়া মিশনের ড. এম জাহাঙ্গীর আলম, সমাজকর্মী মাহফুজুর রহমান ময়না, খালেদুল ইসলাম, ফেরদৌসি বেগম গীতালি, অসীম সাহা, খন্দকার রিয়াজ হোসেন, মো. মুখলেছুর রহমান, তাসলিমা আহমেদ, আনিছুর রহমান, এ কে এম মাকসুদ, কামরুজ্জামান ফরিদ, শাওলি ঝর্না, আজমান, শেখ জেসমিন নাহার, গাজী শামসুল আলম, হাবিবা ও জুয়েনা।

এফআরইবি, রিকের নবীণ-প্রবীণ আন্ত:প্রজন্ম স্বনির্ভর ক্লাব (আইএসএসসি), বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান (বাইগাম), নেটওয়ার্ক অব হেল্পএইজ পার্টনারস ইন বাংলাদেশ (এনএইচপিবি), নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম (নাসফ) ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য ও উন্নয়নকর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী ও প্রবীণ নাগরিকেরা এই পরামর্শ সভায় প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাধীন-স্বনির্ভর, সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ দীর্ঘ জীবন লাভে নির্যাতন প্রতিরোধ, অধিকার বাস্তবায়ন এবং সুরক্ষা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় নানা সুপারিশ তুলে ধরেন। বিশেষত তাদের স্বাস্থ্যসেবায় প্রবীণবান্ধব হাসপাতাল, সরকারি-বেসরকারি ভবন ও স্থাপনা, মেট্রোরেল-ট্রেন, গণপরিবহন ও বিমানবন্দর, আয়-সঞ্চয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কর্মক্ষমতাহীনদের জন্য সামাজিক সহায়তা বাড়ানো এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইনসহ প্রবীণদের কল্যাণে যাবতীয় আইন, বিধি-বিধান ও কর্মকৌশল প্রয়োগের আহ্বানও উঠে আসে এসব কর্মসূচি থেকে। প্রবীণদের জন্য প্রবীণ অধিদপ্তর গঠন এখন সময়ের দাবি- উল্লেখ করে আলোচকরা বলেন, বিশেষ করে প্রবীণ নারীদের দীর্ঘ জীবন প্রত্যাশাগুলো বেশি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, মোট সম্পদের মাত্র ৭ শতাংশের মালিক বৈষম্যের শিকার এসব নারীদের দীর্ঘ জীবন বেশি কষ্টকর, বেশি যন্ত্রণাময় করছে। তাই নারীসহ সব প্রবীণের জন্য নতুন শিখন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও খাদ্য ব্যবস্থার বরাদ্দ বাড়ানোরও দাবি জানান তারা। তবে, প্রতিবাদ নয়, এসব রোধে রাষ্ট্রীয়, পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা তৈরি হওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে পাড়া-মহল্লা ও সেবাদাতা সংস্থাগুলোকেও সমানভাবে সচেতন হয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বানও উঠে আসে আলোচনায়।
দাবিগুলোর জবাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি জানান, সবার আগে বাংলাদেশ- এর সঙ্গে এখন সবার জন্য বাংলাদেশ গড়তেও কাজ করছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার। এ লক্ষ্যে জীবনচক্র ভিত্তিক অর্থাৎ, নবজাতক থেকে শুরু করে প্রবীণ ও দীর্ঘ জীবন লাভকারী নাগরিকদের জন্য গণতান্ত্রিক, মানবিক সমষ্টিকেন্দ্রিক সমাজ গড়ে তোলার কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট বাস্তবায়িত হচ্ছে। সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ষাটোর্ধ্ব অবসরে যাওয়া যোগ্য মানুষদের ফের সরকারের কাজে যুক্ত করা, অস্বীকৃত শ্রমের মূল্যায়ন, জাতীয় পেনশন স্কিম ও ষাটোর্ধ্বদের জন্য সঞ্চয় প্রকল্পসহ প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবাসহ সার্বিক কল্যাণে সরকারি উদ্যোগগুলোকেও তুলে ধরেন তিনি। তবে, সরকারের একার পক্ষে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব নয় মন্তব্য করে সরকারের সঙ্গে সামাজিক উদ্যোগ ও প্রবীণ-নবীন সংযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।
সব শেষে প্রবীণদের প্রতি সহিংসতা, অবহেলা, আর্থিক শোষণ, মানসিক ও মৌখিক নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টিসহ তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতে ঐতিহ্যবাহী পটগান পরিবেশন করেন খুলনার রুপান্তর থিয়েটারের পটশিল্পীরা।
Posted ৭:২৬ পিএম | বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
The Daily Sarod | Pijush Kanti Acharya