অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : 2:00 pm
নাসিরনগরে অটোরিকশাচালক আরজান মিয়া ওরফে আব্দুল্লাহ (১৯) হত্যা মামলার প্রধান আসামি তানভীর আহমেদ ওরফে তুহিনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনার ধারাবাহিকতা যাচাইয়ে তাঁকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পিবিআই।
গত সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে জেলার কসবা উপজেলার মইনপুর পূর্ব নয়নপুর গ্রামের সেন্টু মিয়ার বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে তাঁকে নিয়ে নাসিরনগরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়।
পিবিআইয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২২ সেপ্টেম্বর সকালে নাসিরনগর সরকারি কলেজের সামনে জসিম উদ্দিনের মার্কেটের দক্ষিণ পাশে একটি কাশবনের ভেতর থেকে আরজান মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর চোখ, মুখ ও হাত স্বচ্ছ স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচানো এবং পা রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। নিহত আরজান হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার চিকনপুর গ্রামের মো. আউয়ালের ছেলে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নাসিরনগর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার নেয় পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।
পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রধান আসামি তানভীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, পূর্ববিরোধের জেরে সহযোগী সুয়েব মিয়া ও মাহফুজুর রহমান রিমানের সঙ্গে পরিকল্পনা করে আরজানকে হত্যা করেন তাঁরা। এ জন্য লাখাইয়ের বামৈ বাজার থেকে এক হাজার টাকায় আরজানের অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে নাসিরনগরের সাহেববাড়ি এলাকায় যান। পরে সুয়েব ও রিমান আরজানের হাত-পা চেপে ধরেন। এ সময় সুয়েব গলায় চাপ দিয়ে এবং মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে তাঁকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ কাশবনের ভেতর ফেলে রাখা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ মামলায় এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া সিহাব হোসেন চৌধুরী ও রাহাব আলী জুয়েল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত আরেক আসামি মাহফুজুর রহমান রিমানকে গত ৩১ অক্টোবর অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে এ মামলায় শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করা হয়েছে।
পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপর পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
Posted ২:০০ পিএম | মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
The Daily Sarod | Pijush Kanti Acharya