কসবায় নিখোঁজের দুই দিন পর ডোবায় আ. লীগ নেতার লাশ

অনলাইন ডেস্ক   প্রিন্ট
শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬   সর্বশেষ আপডেট : 9:09 pm

কসবায় নিখোঁজের দুই দিন পর ডোবায় আ. লীগ নেতার লাশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় রাতে কলাবাগান দেখতে বের হয়ে নিখোঁজের দুই দিন পর নায়েব আলী (৬০) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাড়ির পাশের একটি ডোবার কচুরিপানার নিচ থেকে শুক্রবার দুপুরে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের পিঠে গভীর আঘাতের চিহ্ন ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালো দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত নায়েব আলী উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ধজনগর গ্রামের মৃত আবদুর রহিমের ছেলে। তিনি গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে খাওয়া-দাওয়া শেষে প্রতিদিনের মতো বাড়ির পাশে নিজের চাষ করা কলাবাগান দেখতে বের হন নায়েব আলী। প্রতিদিন কলাবাগান দেখে তিনি বাড়িতে ফিরে এলেও ওই রাতে আর ফেরেননি। গভীর রাত পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে খুঁজতে বের হন।
কলা বাগান ও আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজির সময় তাঁর ব্যবহৃত টর্চলাইট, লুঙ্গি, গামছা, বিড়ির প্যাকেট ও গ্যাসলাইট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জঙ্গলসহ আশপাশের এলাকায় খোঁজ করেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে বাড়ির পাশের কচুরিপানায় ভরা ডোবায় খোঁজ চালালে সেখানে নায়েব আলীর লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের ছোট ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মনির হোসেন বলেন, নায়েব আলী প্রায়ই স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতেন। কিছুদিন আগে স্থানীয় মাদক কারবারিদের ঘরবাড়ি ভাঙার সময়ও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এ কারণে মাদক ব্যবসায়ীদের রোষানলে পড়ে তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে পরিবারের ধারণা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের বিষয়টিও তাঁরা সন্দেহ করছেন।
পরিবারের দাবি, নায়েব আলীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি করা হয়নি বলে জানা গেছে।
কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। নিহতের শরীরে গভীর আঘাতের চিহ্ন ও কালো কালো দাগ দেখা গেছে। সুরতহাল শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর নায়েব আলীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Facebook Comments Box

Posted ৯:০৯ পিএম | শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

The Daily Sarod |