ফিচার ডেস্ক
প্রিন্ট
শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : 6:36 pm
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে অযত্নে-অবহেলায় আজও ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে চুন্টা সেন বাড়ি।
আর ঐতিহ্যবাহী বাড়ির এক সময়ের দৃষ্টি নন্দন বাংলোটি পরিত্যক্ত অবস্থায় মাদকাসক্তসহ জুয়াড়িদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে।
১২৭৬ বাংলার ১ আশ্বিন ঐতিহ্যবাহী এই সেনবাড়িতেই জন্ম গ্রহণ করেছিলেন দানবীর ও শিক্ষাবিদ ড. অবিনাশ চন্দ্র সেন।
১৯১৯ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেন মেধাবী অবিনাশ সেন।
এলাকায় “দানবীর অবিনাশ” হিসেবে তাঁর বিশেষ পরিচিতি ছিল। ড. অবিনাশ ছিলেন একজন সমাজসংস্কারক, দানবীর ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ার কারিগর। ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন কৃষ্ণানন্দ দাতব্য চিকিৎসালয়, ১৯২৬ সালে স্ত্রীর নামে গিরিবালা বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯২৩ সালে কুমিল্লা হাসপাতালে প্রথম এক্স-রে মেশিন ও আধুনিক ওয়ার্ড চালু করে স্বাস্থ্যখাতে সুনিশ্চিত করেন আধুনিকতার পথ। তার ব্যক্তিগত পাঠাগার “দুলভা লাইব্রেরি” ছিল এক দুর্লভ জ্ঞানের ভাণ্ডার।
ড. অবিনাশ ১৯৪০ সালে ত্রিপুরা হিতসাধনী সংঘের প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় বণিক সমিতির সদস্য ছিলেন।
চুন্টা গ্রামে ১৯৪৭ সালে অবিনাশ সেনের গড়া চুন্টা এ,সি একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি অবিনাশ চন্দ্র সেনের স্মৃতি বহন করছে।
তাঁর স্ত্রী গিরিবালা সেন ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের কন্যা।
১৯৪১ সালে ঐতিহ্যবাহী সেন বাড়ির সামনে অবিনাশ সেন নিজ উদ্যোগে মনোরম বাংলো প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজও স্থানীয়দের কাছে অবিনাশ বাবুর বাংলো নামে পরিচিত।
চুন্টা গ্রামের বাসিন্দা দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার প্রতিনিধি শামসুল আরেফিন সহ স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন সেনবাড়ির উদ্যোগে প্রতিবছর এই বাড়িতে লাঠিখেলা সহ লোকজ সংস্কৃতির বিভিন্ন উৎসব হতো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। এই বাড়িটি ছিল এই অঞ্চলের শিল্প,সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র।সেনবাড়ির বাসিন্দারা দেশ ত্যাগের পর থেকে বাড়িটি অরক্ষিত হয়ে আছে দীর্ঘকাল। এই সুযোগে পরিত্যাক্ত এই বাড়িটিতে রাতের নিরবতায় মাদকসেবি সহ জুয়াড়িদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। তারা ঐতিহ্যবাহী সেনবাড়ির সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান। তাদের তথ্য মতে, একসময় প্রত্নতত্ব বিভাগের লোকজন এসে পরিদর্শন করে গেলেও বাড়িটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেই।
বাড়িটির পাশবর্তী বাসিন্দা পল্লী চিকিৎসক মোঃ বিল্লাল মিয়া জানান, সেনবাড়ি একটি ঐতিহ্যের নিদর্শন। এই বাড়ির নাম-ধাম ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন এলাকায়। স্বাধীনতার পর পর বাড়ির মালিকরা দেশ ত্যাগ করেন। বর্তমানে মূল বাড়িতে ৪/৫ টি হিন্দু পরিবার বসবাস করেন। ঐতিহ্যবাহী এই বাড়িটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আওতায় সংরক্ষণের দাবি জানাই।
চুন্টা ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জিয়াউল আলম জানান,চুন্টা মৌজার ৫১৩৮ হাল দাগ, সাবেক দাগ ২৮৬২, আরওআর খতিয়ান১৫০৯ অনুযায়ী সেনবাড়ির ৭৪ শতক জায়গার ৫২ শতক ১নং খাস খতিয়ানভূক্ত,২২ শতক ১/১ খতিয়ানভূক্ত।
চুন্টা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির জানিয়েছেন পরিত্যক্ত অবস্থার সুযোগে রাতের আঁধারে মাদকাসক্ত,জুয়াড়ি সহ অপরাধীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী সেনবাড়িটি।
প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রত্ন সম্পদ)রাখী রায় বলেন,বাড়িটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে খোঁজ খবর নিয়ে দেখবো।
Posted ৬:৩৬ পিএম | শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬
The Daily Sarod | Pijush Kanti Acharya