অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : 5:46 pm
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের মেঘনা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। অবাধে বালু তোলার কারণে হুমকিতে পড়েছে দেশের অন্যতম বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। একই সাথে বালুখেকোদের তাণ্ডবে নদীগর্ভে তলিয়ে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় চরসোনারপুর গ্রাম। যেখানে বাস করে প্রায় ১০ হাজার মানুষ। প্রশাসনের নাকের ডগায় চরা এই অপকর্ম বন্ধে পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাবাসীর মাঝে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মেঘনা নদীর কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টগুলোতে দিন-রাত সমানতালে শক্তিশালী একাধিক ড্রেজার চালিয়ে তোলা হচ্ছে কোটি কোটি টাকার বালু। নদীর তলদেশের গতিপথ ও মাটি পরিবর্তন হয়ে যাওয়ায় ভাঙন পৌঁছে গেছে পাওয়ার স্টেশন ও জাতীয় সঞ্চালন লাইনের পিলারের কাছাকাছি।
নদী সুরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, পিলারের গোড়া থেকে এভাবে বালু সরে যেতে থাকলে যে কোনো মুহূর্তে তা ভেঙে পড়তে পারে। আর এমনটি ঘটলে জাতীয় গ্রিডের আওতাভুক্ত দেশের ২৮টি জেলায় একযোগে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিপর্যয় দেখা দেবে, যা পুরো দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে বড় আঘাত হানবে।

এ দিকে নদীগর্ভে নিজেদের অস্তিত্ব হারানোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন মেঘনার বুকে জেগে ওঠা ‘চরসোনারপুর’ গ্রামের ১০ হাজার মানুষ। গ্রামের বসতবাড়ি ও আবাদি জমির একেবারে কাছে ড্রেজিং করায় ভাঙন প্রতিনিয়ত গিলে খাচ্ছে চরের নতুন নতুন এলাকা।
চরসোনারপুরের প্রবীণ বাসিন্দা ভোজন চন্দ্র দাস বলেন, প্রভাবশালীরা দিন-রাত ড্রেজার দিয়ে বালু তুলতাছে। প্রতিবাদ করলে হুমকি-ধামকি দেয়। নদী ভাঙতে ভাঙতে আমগোর ঘরের কাছে আইয়া পড়ছে। বালু তোলা বন্ধ না করলে পুরা চরটাই নদীতে তলায়া যাইবো, আমগো ১০ হাজার মানুষ এক রাইতে গৃহহীন হয়া যামু।
চরের আরেক বাসিন্দা রানা সরকার বলেন, আমরা এখন অসহায়। দোয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আমাদেরকে নিয়ে সরকার ভাবলে এভাবে দিনেরাতে বালু তুলে আমাদেরকে হুমকির মুখে ফেলতো না।
নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষাবিষয়ক সংগঠন তরী বাংলাদেশ- এর আহ্বায়ক শামীম আহমেদ বলেন, অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন হচ্ছে- বিষয়টি আমরা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অবগত করেছি। তখন আমরা জানতে পেরেছি ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে কোনো ধরনের বালু উত্তোলনের লিজ দেওয়া হয়নি। কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন তাদের ভৈরব অংশে লিজ দিয়েছে। কিশোরগঞ্জ সীমানায় লিজ দিলেও দিনরাত অবৈধভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রভাবশালী মহলের হাত করেই একটি চক্র আমাদের সীমানায় এসে কোটি টাকার ব্যবসা চালাচ্ছে। জাতীয় স্থাপনা হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত এসব বন্ধ হোক।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, এই চক্রটি ইজারা পেয়েছে কিশোরগঞ্জ থেকে যেটা কিনা আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ মেঘনা এলাকার ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে, তবুও তারা অন্যায়ভাবে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সাথে এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও কথা বলেছি। আমরা খুব শিগগিরই দুই জেলা মিলে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেবো।
Posted ৫:৪৬ পিএম | রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
The Daily Sarod | Pijush Kanti Acharya