অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : 10:27 am
চীন-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ৯৩ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে৷ আকস্মিক বন্যার দুদিন পেরোলেও এখনো নিখোঁজ শত শত মানুষ৷ গত বুধবারের আকস্মিক বন্যার পানিতে সৃষ্টি হওয়া একটি হ্রদের পানি উপচে পড়ার উপক্রম হলে উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল৷
প্রাকৃতিক দুর্যোগে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া জেলার কর্মকর্তা নরেন্দ্র পরিয়ার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা খবর পেয়েছি হ্রদের বাঁধ ভেঙে পানি বেরিয়ে আসছে। নদীর পানির স্তরও বাড়ছে।”
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কার কারণে রাসুয়া জেলার বাসিন্দারা পাহাড়ের ঢালের দিকে সরে যান। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, বিপদ কিছুটা কমেছে৷ তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে৷
নতুন দুর্যোগের ঝুঁকি আপাতত কমায় উদ্ধারকাজ আবার শুরু হয়েছে৷
নেপাল জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা গতকালের ৩৯০ থেকে বেড়ে ৫৩৮-এ দাঁড়িয়েছে৷ তিব্বতে মৃতের সংখ্যাও ৩ থেকে বেড়ে ৫ হয়েছে বলে জানিয়েছে চীন।
এখনো ১,৪০০-রও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ নিখোঁদের মধ্যে ৩০টিরও বেশি দেশের অন্তত ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও রেড ক্রসের সতর্কবার্তা
রেড ক্রসের হিসাব অনুযায়ী, নেপাল ও তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় ৯৩ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন৷ তাদের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে রেড ক্রস।
জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে রেড ক্রসের মুখপাত্র ডেভিড ফিশার বলেন, ‘‘আমরা আরেকটি সম্ভাব্য বন্যার বিষয়ে উদ্বিগ্ন।” তিনি জানান, ভূমিধস ও বন্যার পানিতে সৃষ্টি হওয়া হ্রদটির কারণে রেড ক্রসের ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো দুর্গত এলাকায় যেতে পারছে না।
জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক কার্যালয়ের প্রধান কমল কিশোর নতুন দুর্যোগের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, ‘‘দুর্যোগ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা এখনো চলমান।”
দুর্যোগের পর রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)৷ ডাব্লিউএইচও-র মুখপাত্র তারিক জাসারেভিচ বলেন, ‘‘এমন বড় ধরনের দুর্যোগের পর বাস্তুচ্যুতি, অতিরিক্ত জনসমাগম এবং পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার কারণে ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের রোগের মতো সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।” এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি৷
সূত্র: ডয়চে ভেলে
Posted ১০:২৭ এএম | শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
The Daily Sarod | Pijush Kanti Acharya