শিরোনাম
পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা: তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি জালশুকার আমিনুল হকের মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের নির্বাচন ৫ সেপ্টেম্বর, সুষ্ঠু ভোটের আশ্বাস কমিশনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সমবায় ব্যাংকের বিশেষ সাধারণ সভা, চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম ‘প্রয়াস’ থেকে পালিয়েছে ৪০ রোগী, মৃত্যুর ঘটনায় নেই মামলা কসবায় নিখোঁজের দুই দিন পর ডোবায় আ. লীগ নেতার লাশ সরাইলে মাদ্রাসা ও মসজিদের জায়গা অধিগ্রহণের প্রতিবাদে মানববন্ধন প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর এখনও চূড়ান্ত হয়নি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর শপথ নিলেন আরও ৬ জন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল

দুর্নীতির অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫ ঘন্টা অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক   প্রিন্ট
বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪   সর্বশেষ আপডেট : 10:11 pm

দুর্নীতির অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫ ঘন্টা অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে দুর্নীতির অভিযোগে আনন্দময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষককে ৫ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) স্কুলে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।  পরে বেলা দুইটার দিকে শিক্ষার্থীদের বিচারের আশ্বাস দিয়ে জেলা প্রশাসনের দুইজন ম্যাজিস্ট্রেট এসে প্রধান শিক্ষক আবু জামালকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।

আনন্দময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী মোছা: নাঈমা ও ইশরাত জাহান তৃষ্ণা সহ কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক আবু জামাল বিভিন্ন জাতীয় দিবস ভুয়া বিল তৈরি করে বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন করেন। অথচ এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনকারী শতাধিক ছাত্রীদের নিকট থেকেও ৬০০ টাকা হারে নেন এই প্রধান শিক্ষক। এই ঘটনা জানাজানি ও প্রমাণ হলে প্রধান শিক্ষকের পরিবর্তে এক নৃত্য শিক্ষকের চাকরি চলে যায়। স্কুলের তহবিল তছরুফ করতে অফিস সহকারি হরিশঙ্কর চক্রবর্ত্তীকে অবসর গ্রহণ করার পর প্রায় তিন চার বছর তিনি তাকে চাকরিতে বেআইনিভাবে বহাল রেখেছেন। আমাদের মা-বাবারা বিদ্যালয়ে সাক্ষাতের জন্য আসলে তিনি তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন।

তারা বলেন, ঝাড়ুদার মিনা রানী দাস থেকে দেড়লাখ টাকা ঘুস নিয়েছেন তার চাকরি স্থায়ী করতে, কিন্তু তা তিনি এখনো করেননি। তার ঘুষ প্রদানকৃত টাকা এখনো ফেরত পায়নি বলে আমরা জানতে পেরেছি।২০২৩ সালে এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের থেকে অবৈধভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় করলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তা প্রচার হলে ইউএনও’র অফিসে অভিযোগের ভিত্তিতে সে ক্ষমা চেয়ে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন তিনি। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য দূর্নীতির প্রমাণ আমাদের কাছে আছে।
আমরা গতকাল তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করলে ইউএনও এসে বলে যান প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত করে আগামী এক সপ্তাহের ভেতরে প্রতিবেদন দেওয়া হবে, এই এক সপ্তাহ তিনি স্কুল আসবেন না। কিন্তু তিনি আবার আসায় আমরা আন্দোলনে নেমেছি।

প্রধান শিক্ষক আবু জামাল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তদন্তে সব প্রমাণ হবে।

তবে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির দাতা সদস্য লতিফুর রহমান বলেন, বিভিন্ন দিবসে অংশ নিতে বিদ্যালয় থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিজয় দিবসেও ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেই। কিন্তু অংশ গ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৬০০টাকা করে নেওয়া হয়। যা প্রমাণ হওয়ার পর সেই টাকা স্কুল ফান্ডে রেখে দেওয়া হয়।

প্রধান শিক্ষক আবু জামালকে তার কক্ষে সকাল ৯টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ করেন। এসময় তারা তার বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্লোগান দেন। খবর পেয়ে স্কুলে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা আসেন। কিন্তু স্কুলের প্রধান ফটক বন্ধ করে প্রধান শিক্ষককে বের হতে দেননি শিক্ষার্থীরা। এই অবস্থায় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ইকরামুল হক নাহিদ ও নুশরাত জাবীন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। তারা শিক্ষার্থীদের প্রধান শিক্ষক আবু জামালের বিষয়ে তদন্ত করে বিচারের আশ্বাস দেন। তাদের আশ্বাসের ভিত্তিতে দুপুর দুইটার দিকে প্রধান শিক্ষককে নিয়ে যেতে দেন।

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ইকরামুল হক নাহিদ বলেন, প্রধান শিক্ষককে শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধ করে। এই খবরে জেলা প্রশাসন থেকে আমাদের পাঠানো হয়। সেখান থেকে উনাকে আমরা নিয়ে আসি।

Facebook Comments Box

Posted ১০:১১ পিএম | বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪

The Daily Sarod |