কসবা প্রতিনিধি
প্রিন্ট
শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : 10:05 pm
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কার্যালয় সংলগ্ন পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক প্রয়াত সামছুল আলম কাওসারের নবনির্মিত সীমানা দেয়াল ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। এসময় শতাধিক চারাগাছ কর্তন, ঘরের এসি ও বাড়ির দেয়ালের কাছে থাকা টিনের বেড়া ভাংচুর করে কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতি করার অভিযোগ করা করা। শনিবার (২১ অক্টোবর) সকালে কসবার ষ্টেশন রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী সাঈদা সুলতানা সুপ্রিয়া বিএনপি নেতা সাবেক পৌর মেয়র মোহাম্মদ ইলিয়াছ ও তার ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলমসহ ২৩ জনকে আসামী করে কসবা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, হয়রানী করতে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কসবা পৌর আওয়ামী লীগ সাবেক সাধারন সম্পাদক সামছুল আলম কাওসার গত প্রায় ৫ বছর আগে মারা যান। ইতোপুর্বে কাওসার আলমের ৫ বোন ও এক চাচা তাকে না জানিয়ে হিস্যা ভাগ না করে তাদের অংশ বিক্রি করে ফেলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমের নিকট। কাওসার আলমের অকাল মৃত্যুর পর পৌর শহরের বিশাল সহায় সম্পত্তি নিয়ে বিপাকে পড়েন তার স্ত্রী সাঈদা সুলতানা সুপ্রিয়া ও তার নাবালক তিন সন্তান। এ নিয়ে মামলা মোকাদ্দমা চলমান রয়েছে জাহাঙ্গীর আলমদের সাথে।
সাঈদা সুলতানা সুপ্রিয়া জানান, এ বিষয়ে সমাধানের লক্ষ্যে সার্কেল অফিসে একাধিকবার ডাকা হলেও জাহাঙ্গীর আলমরা আসেন না। স্থানীয় বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম ও তার লোকজন সন্ত্রাসী কায়দায় শনিবার তাদের নবনির্মিত দেয়াল, টিনের বেড়া ও এসি ভেঙ্গে ফেলে। তিনি আরও বলেন, এসময় কসবা থানা ওসিকে ফোন দিয়ে সাাড়া না পেয়ে ৯৯৯’এ ফোন দেন। এই বাড়িতেই সহকারী পুলিশ সুপার কসবা সার্কেল অফিস ও বাসা ভাড়া দেওয়া আছে। রাতে তিনি বাসায়ই ছিলেন।
এ বিষয়ে সহাকরী পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, আমি মরহুম সামছুল আলম কাওসারের স্ত্রীকে থানায় অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ দিলে আমি তদারকি করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
কসবা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মহিউদ্দিন জানান, আমি ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানূগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাতের আধারে কে বা কারা দেয়াল ভেঙ্গেছে তা জানা নাই। আমি ঢাকায় থাকি। তবে জানতে পেরেছি তিনি আমার ক্রয় করা জায়গায় দেয়াল নির্মাণ করেছেন।
সাবেক কসবা পৌর মেয়র বিএনপি নেতা মোহাম্মদ ইলিয়াছ’র এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কাগজ পত্র অনুযায়ী জায়গা সংক্রান্ত এ বিষয়ে মিমাংসা করার জন্য বার বার আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু সাঈদা সুলতানা বসতে আগ্রহী নয়।
কসবা পৌর মেয়র গোলাম হাক্কানী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন, জেলা পরিষদ সদস্য আবদুল আজিজসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা পুলিশের সার্কেল অফিস সংলগ্ন এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কসবা থানা ওসির প্রতি আহবান জানান।
-রুবেল আহমেদ /
Posted ১০:০৫ পিএম | শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০২৩
The Daily Sarod | Pijush Kanti Acharya