অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : 10:58 am
দেশের ৪৭ দশমিক ৪২ শতাংশ পরিবার ঋণগ্রস্ত৷ আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছে তারা৷ জাতীয় বেতন কমিশনের অনুরোধে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) করা এক বিশেষ জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে৷ এতে বলা হয়েছে, শহরের তুলনায় গ্রামের পরিবারগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷
বিবিএসের ‘দারিদ্র্য ও জীবিকা পরিসংখ্যান সেল’ পরিচালিত ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫’ অনুযায়ী, গত এক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গিয়ে গ্রামের ৫১ দশমিক ৯১ শতাংশ, শহরাঞ্চলের ৪০ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশন এলাকার ৩২ দশমিক ১১ শতাংশ পরিবার ঋণ করতে বাধ্য হয়েছে৷
জরিপে দেখা গেছে, জাতীয় পর্যায়ে পরিবারপ্রতি গড় মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৫১৩ টাকা, যেখানে গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা৷ পরিবারপ্রতি সবচেয়ে বেশি মাসিক গড় ব্যয় সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা৷ এরপরে রয়েছে শহরাঞ্চলে গড়ে ৩৭ হাজার ৩৪৪ টাকা ও গ্রামীণ এলাকায় ৩২ হাজার ৫৩২ টাকা৷
জাতীয় পর্যায়ে মাসিক খরচের অর্ধেক খাদ্যে এবং বাকি অর্ধেক খাদ্যবহির্ভূত খাতে ব্যয় হয়, তবে অঞ্চলভেদে এর ভিন্নতা রয়েছে৷ গ্রামীণ এলাকায় খাদ্যের পেছনে খরচ বেশি হয়, অন্যদিকে শহরাঞ্চলে খাদ্যবহির্ভূত খাতে খরচ বেশি৷ সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে মাসিক খরচের ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশই ব্যয় হয় খাদ্যবহির্ভূত খাতে৷
এর বিপরীতে, ২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপে দেখা গিয়েছিল, জাতীয় পর্যায়ে গড় পারিবারিক আয় ছিল ৩২ হাজার ৪২২ টাকা এবং গড় ব্যয় ছিল ৩১ হাজার ৫০০ টাকা৷ নবম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় বেতন বাড়ানোর সুপারিশ তৈরিতে সহায়তা করার লক্ষ্যেই কমিশন এই বিশেষ জরিপ পরিচালনা করতে বলেছিল৷
গত বছরের ১৪ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়৷ এতে গ্রামীণ, শহরাঞ্চল ও সিটি করপোরেশন এলাকার মোট তিন হাজার পরিবারের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়৷ ১৫০টি নমুনা এলাকা (স্যাম্পলিং ইউনিট) থেকে ট্যাবলেট ডিভাইস ও ডিজিটাল কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পার্সোনাল ইন্টারভিউয়িং পদ্ধতিতে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়৷
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, মহামারির পর থেকে বাংলাদেশ যে দুর্বল সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, এই জরিপের ফলাফল যেন তারই এক প্রতিচ্ছবি৷
তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমছে, পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি উচ্চমাত্রায় (সিঙ্গেল ডিজিট বা ডাবল ডিজিট) রয়ে গেছে, যা কমার কোনো লক্ষণ নেই৷
পাশাপাশি কর্মসংস্থান স্থবির হয়ে আছে এবং মানুষের প্রকৃত মজুরি ধারাবাহিকভাবে কমেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি৷
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ৫৬ মাস ধরে মজুরি বৃদ্ধির হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার বেশি ছিল৷
সূত্র: ডয়চে ভেলে
Posted ১০:৫৮ এএম | সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
The Daily Sarod | Pijush Kanti Acharya