নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট
মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট : 10:20 pm
ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর বলেছেন, আজকে আমরা রাজনীতিবিদদের দুর্নীতি লুটপাটের কথা বলছি, হাসিনার ফ্যাসিবাদের কথা বলছি, হাসিনা ফ্যাসিবাদ হওয়ার জন্যে সবচেয়ে বেশি দায়ী এই দেশের আমলাতন্ত্র। এই দেশের এসপি-ডিসিরা বহাল তবিয়তে আছে। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ দেশ ছেড়েছে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ও গ্রেপ্তার হয়েছেন। কয়জন এসপি-ডিসি গ্রেপ্তার হয়েছে? কয়জন ইউএনও ওসি গ্রেপ্তার হয়েছে? এই ইউএনও, ওসি, এসপি ও ডিসিরা হাসিনার আকাম-কুকামের সহযোগী ছিলেন। হাসিনার বিচারের পাশাপাশি প্রশাসনেও যারা ফ্যাসিবাদের দোসর ছিলেন, ফ্যাসিবাদের সহযোগী ছিলেন, তাদেরকে নূন্যতম বিচারের মুখোমুখি অবশ্যই করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে নতুন সরকার গঠন করেছি। কিন্তু সাড়ে ৪ মাসেও সরকারের কাজ জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। জনগণ বড়রকমের ধাক্কা খেয়েছে, এটা কী সরকার গঠন করেছে? জনগণের প্রত্যাশা ছিল রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী লড়াকু বিপ্লবীদের নিয়ে একটা বিপ্লবী সরকার হবে। কিন্তু সেটা হয়নি, হয়েছে বন্ধুবান্ধব পরিচিত সার্কেলের একটি সরকার। তারপরও আমরা স্বাগত জানিয়েছি।
মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জুলাই বিপ্লব ও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে জনআকাঙ্খাররাজনীতি শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
নূরুল হক নূর এসময় বলেন, এই গণহত্যার মাস্টারমাইন্ড শেখ হাসিনাকে যদি বিচারের মুখোমুখি না করা যায় শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে না। পরিস্কার ভাবে সরকারকে বলছি, আপনাদের ভারতের সাথে শক্তভাবে দেনদরবার করতে হবে, শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে হবে। শেখ হাসিনাকে ফেরত এনে এই গণহত্যার মাস্টার মাইন্ড হিসেবে ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে পৃথিবীর বুকে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে যে, ফ্যাসিবাদের পরিণতি এমন। শেখ হাসিনার কোন ক্ষমা নাই।
আরও বলেন, ১৬ বছর হাসিনার যাতাকলে পিষ্ট হয়ে সহ্য করেছি। এই জুলাই আগস্টে পতন না হলে আরও কিছু দিন থাকতো হাসিনা। একটু ধৈর্য্য ধরতে হবে। এখনই যদি আমরা বলি আবার ভোটাধিকারের জন্যে আবার ৫ আগস্ট ঘটাতে হবে, ঠিক না। আমরা বলি এটি দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ, তা ঠিক না। স্বাধীন একটি জাতির ইতিহাসে একবারই হয়, তা আমরা ৭১ সালে হয়েছি। এখন আমরা আমাদের দ্বিতীয় মুক্তিসংগ্রামের লড়াই বলতে পাড়ি, আমাদের নাগরিক মর্যাদার লড়াই বলতে পারি, অর্থনীতি ও সামাজিক মুক্তির লড়াই বলতে পারি। গত ১৫ বছরে ভারতের দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিলাম, সেই শৃঙ্খল ভেঙে আমরা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করেছি। কাজেই একটার সাথে আরেকটার তুলনা করা যাবে না।
আরও বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাদিম হাসান, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রূপ মিয়া হোসাইন রাজ, আইনজীবী অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট মেহেদী হাসান,ঢাকা বারের আহবায়ক এডভোকেট মুমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
Posted ১০:২০ পিএম | মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪
The Daily Sarod | Pijush Kanti Acharya