আবুল হাসনাত মো. রাফি
প্রিন্ট
সোমবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট : 8:41 pm
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে আবারও প্রার্থী হচ্ছেন মহাজোট থেকে সাবেক দুইবারের এমপি জিয়াউল হক মৃধা। রোববার (০৮ অক্টোবর) তিনি নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। জিয়াউল হক মৃধা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাতীয়পার্টির আহবায়ক ও জাতীয়পার্টির (রওশন এরশাদ পন্থী) কমিটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে রওশনপন্থী কমিটির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে উপনির্বাচনে প্রতীক পাওয়ার পরও নির্বাচন থেকে তিনি সরে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জিয়াউল হক মৃধা জাতীয়পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। পরবর্তীতে তাকে দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে জিএম কাদের ও রওশন এরশাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। রওশনপন্থীরা সম্মেলনে গত বছর ২৬ নভেম্বর সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা দিয়ে প্রস্তুতি কমিটি করে। সেই কমিটিতে জিয়াউল হক মৃধা সদস্য থাকায় গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জিএম কাদের তাকে অব্যহতি প্রদান করেন। গত ফেব্রুয়ারিতে উপনির্বাচনে উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঞার সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। নির্বাচন কমিশন থেকে তাকে ‘আপেল’ প্রতীক বরাদ্ধ দেওয়া হয়। প্রতীক পাওয়ার পর উপনির্বাচনের ১২ দিন আগে জিয়াউল হক মৃধা ঘোষণা দিয়ে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ান।
উপনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর গত ১৮ জানুয়ারি তার সাক্ষরিত লিখিত বিবৃতিতে জিয়াউল হক মৃধা বলেছিলেন, ‘দু’বারের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বহুমুখী উন্নয়নের ধারায় নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করেছি। তবে আসন্ন উপ-নির্বাচন পরবর্তী সংসদীয় মেয়াদকাল জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য খুব সংক্ষিপ্ত সময়। উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় আমি আমার নির্বাচনী আসনের ভোটারগণকে যে ওয়াদা এবং আশ্বাস দিয়ে ভোট প্রার্থনা করবো, সংক্ষিপ্ত সময়ে সে ওয়াদা ও আশ্বাস বাস্তবায়ণ করা অত্যন্ত দূরূহ বলে আমি মনে করি। আমি সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে উন্নয়নের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সম্মানিত ভোটারগণের সাথে প্রতারণা করতে পারি না।’
এই বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা বলেন, জনগণ চাচ্ছে তাই আমাকে নির্বাচনে যেতে হচ্ছে। আমি তো জাতীয়পার্টির রওশন গ্রুপের। আগামী নভেম্বরে আমাদের সম্মেলন হওয়ার কথা। তাই আমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে হবে।
গত ফেব্রুয়ারিতে উপনির্বাচনে আপনি স্বল্প সময়ে জনগণের জন্যে কিছু করতে পারবেন না বলে প্রতীক পাওয়ার পরও সরে দাঁড়িয়েছিলেন, এই বার তো নির্বাচনের পর সময় আরও কম। এমপি হিসেবে জয়লাভ করলে মাত্র একমাস পাবেন, তাহলে কেন এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে জিয়াউল হক মৃধা বলেন, এবারের সময় আরও কম সঠিক। এখন দেখছি রাজনীতিতে যদি ধারাবাহিকতা না থাকে তাহলে শুন্যস্থানে অন্য কেউ এসে পড়বে। কিছুদিন আগে বসে গেছি, এখন যদি না করি কর্মীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েবে। পরবর্তী নির্বাচন আমার জন্যে কঠিন হয়ে পড়বে। তাই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) সংসদীয় আসনের এমপি উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঞা ৬ বারের এমপি ছিলেন। এছাড়াও একবার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যুতে গত মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) আসনটি শূন্য ঘোষণা করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ ৫ নভেম্বর।
Posted ৮:৪১ পিএম | সোমবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৩
The Daily Sarod | Pijush Kanti Acharya