স্টাফ রিপোর্টার
প্রিন্ট
বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২২
সর্বশেষ আপডেট : 10:55 pm
রিকশা চালক খলিল মিয়া। নেই কোন সহায় সম্পদ, নেই মাথা গুজার মতো সামান্য জমিও। তাই একমাত্র কন্যা ও দুই ছেলেকে নিয়ে দেশের প্রান্তে জীবিকার তাগিদে ছুটে চলছিলেন। এরই মাঝে ছোট্র একটি ঘটনায় এই অসহায় রিকশা চালকের পরিবারের হাসি মিলিয়ে গেছে। গত ১০টি বছর নিজ সন্তানকে শিকলবন্দী করে রাখতে হচ্ছে খলিল মিয়ার। ছেলেকে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ দিতে তার প্রয়োজন প্রায় ১২ লক্ষ টাকার। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথায় পাবেন খলিল মিয়া!
খলিল মিয়ার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের ভলাকুট গ্রামে। বর্তমানে বসবাস করেন সরকারি আশ্রায়ণ প্রকল্পে গৃহহীনদের জন্যে দেওয়া ঘরে। স্ত্রী ও দুই ছেলে সন্তান নিয়ে বসবাস করেন তিনি। সম্প্রতি একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন গ্রামবাসী থেকে চাঁদা তুলে। ছোট ছেলে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাইমারী স্কুলে পড়ে। বড় ছেলে ১৮ বছরের রবিউলকে শিকলবন্দী করে ঘরে বেঁধে রাখতে হয়। পাশাপাশি নিয়মিত চিকিৎসাও করাতে হয় রবিউলকে। রিকশা চালিয়ে আয় করা সামান্য অর্থে পরিবারের খরচ ও বড় ছেলে রবিউলের চিকিৎসা ব্যয় চালাতে হিমশিম খাচ্ছে খলিল মিয়া।
খলিল মিয়া বলেন, দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে আমি সুখেই জীবনযাপন করছিলাম। গ্রামে বাড়ি ও সামান্য জমিও ছিল। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় রিকশা চালিয়ে বসবাস করতাম। আমার বড় ছেলে রবিউল সেখানে স্কুলে পড়াশোনা করতো। ৩য় শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় সে একদিন স্কুল থেকে সহপাঠীদের সাথে বাসায় ফিরছিল। পথিমধ্যে একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচে তারা খেলা করার সময় দেয়ালের সাথে ধাক্কা লেগে রবিউলের মাথার পেছনের দিকে রডের অংশ ডুকে যায়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। চিকিৎসার পর সে স্বাভাবিক চলাফেরা করছিল। কিন্তু এই ঘটনার ৫ মাস পর সে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে, যা ধীরে ধীরে তা ক্রমেই বাড়তে থাকে। রবিউলের আরও উন্নত চিকিৎসা শুরু হয়। ছেলের এই চিকিৎসা চালাতে গিয়ে বাড়িঘর ও শেষ সম্বল সামান্য জায়গাটুকুও বিক্রি করে দিতে হয়েছে। আর কিছু না থাকায় ঘরের থালাবাসনও বিক্রি করে দিয়ে চিকিৎসা চালাতে হয়েছে। গত ১০ বছর রবিউলকে শিকলবন্দী করে রাখতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকরা বলেছেন ভারতে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করালে ভাল হয়ে যাবে রবিউল। এরজন্যে প্রয়োজন প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। যেখানে রিকশা চালিয়ে নূন আনতে পান্তা ফোরায়, সেখানে কোথায় পাব এত টাকা! যদি কোন বিত্তবান মানুষ বা সরকার সহায়তা করলে আমার ছেলে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।
ভলাকুট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রুবেল মিয়া বলেন, খলিল মিয়া নিজ গ্রামে ফিরে আসবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু তার কোন সহায় সম্পদ বা মাথা গুজার মতো জায়গা ছিল না। বিষয়টি আমাকে জানালে এই অসহায় পরিবারকে গৃহহীন হিসেবে আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়ার ব্যাপারে সর্বাত্মক সহায়তা করার আশ্বাস প্রদান করি। কিন্তু খলিল মিয়া ছিলেন সিলেটের ভোটার। আমি নিজ উদ্যোগে তাকে ভলাকুট ইউনিয়নের ভোটার করি। তারপর আশ্রায়ণ প্রকল্পে ঘর তাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সে জানায় তার ছেলে প্রতিবন্ধী। আমি বলেছি, তাকে প্রতিবন্ধী ভাতা পেতে সহায়তা করা হবে।
উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা রাকেশ পাল বলেন, আশ্রায়ণ প্রকল্পে একটি ছেলে দীর্ঘদিন যাবত শিকলবন্দী আছে। বিষয়টি কয়েকদিন আগে আমি জেনেছি। ছেলেটি যেন প্রতিবন্ধী ভাতা পায়, এর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
Posted ১০:৫৫ পিএম | বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২২
The Daily Sarod | Pijush Kanti Acharya