স্টাফ রিপোর্টার
প্রিন্ট
রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮
সর্বশেষ আপডেট : 2:50 pm
মারা গেছেন মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধ সংগঠক, কণ্ঠযোদ্ধা ফিরোজ আহমেদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দক্ষিণ পৈরতলার শেখ জালাল মাজার রোড এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। রোববার সকাল ১০টার দিকে তিনি অসুস্থ হলে জেলা শহরের হলিল্যাব হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হলিল্যাব হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু কাউসার।
মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ ১৯৪৪ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। মহান মুক্তিযোদ্ধে অস্ত্রে হাতে রনাঙ্গণে যুদ্ধের পাশাপাশি মুক্তিসেনাদের প্রেরণা যোগাতে ক্যাম্পে ক্যাম্পে গান করেছেন ফিরোজ আহমেদ। মুক্তিকামী মানুষ তথা মুক্তিযোদ্ধাদের মনোরঞ্জনের পাশাপাশি তাদেরকে উজ্জীবিত করতে তার গাওয়া গান সেসময় টনিকের মতো কাজ করেছে। শত শত ছাত্র-যুবক, কৃষক, শ্রমিকসহ খেটে খাওয়া মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছে মুক্তিযুদ্ধে।
তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কন্ঠ শিল্পী ছিলেন। আব্দুল কুদ্দুছ মাখন ও শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নেতৃত্বে মুজিবনগর সরকার অনুমোদিত ‘বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সংস্থা’ নামে একটি টিম গঠন করা হয়। বাংলাদেশ থেকে যে সব শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মী ভারতের আগরতলার ত্রিপুরায় আশ্রয় নিয়েছিলেন তাদের নিয়েই প্রথমে এ সংগঠনটি গড়ে তোলা হয়। ওই সাংস্কৃতিক দলটির আগরতলায় পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন কণ্ঠশিল্পী ফিরোজ আহমেদ।
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় মাওলানা ভাসানির সন্তোষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে ‘দুনিয়ার মজদুর ভাইসবে, আয় এক মিছিলে’ গণসঙ্গীত গেয়েছিলেন। এরপর ১১ দফা, ছয় দফা, ৬৯-র গণআন্দোলন, ৭০-র নির্বাচন ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তির গান গেয়েছেন।
তিনি ৩ নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট হেলাল মোর্শেদের নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছিলেন। সেসময় দেশের পূর্ব রণাঙ্গনে (২ ও ৩ নম্বর সেক্টর) মুক্তির গান গেয়ে মানুষকে উজ্জীবিত করতেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ায় পাকি বাহিনী তার বাড়িঘর ও দোকান পুড়িয়ে দেয়।
কন্ঠযোদ্ধা ফিরোজ আহমেদ দীর্ঘদিন যাবত হৃদরোগ সহ নানান রোগে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও ৪ কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
Posted ২:৫০ পিএম | রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮
The Daily Sarod | Pijush Kanti Acharya