অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : 6:39 pm
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শ্রী শ্রী দক্ষিণ কালীবাড়ি মন্দিরের কমিটি অবৈধভাবে পুনর্গঠন করার খবরে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দাতা ওয়ারিশগণ পাশ কাটিয়ে রঞ্জন চৌধুরীকে সভাপতি ও রাকেশ বনিককে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি পুনর্গঠনের খবর ৯ জুলাই স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশের পর শনিবার(১১ জুলাই) প্রতিবাদ সভা করেন স্থানীয় হিন্দু জনসাধারণ। তারা অবৈধপন্থায় কমিটি গঠনের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।
দাতার ওয়ারিশ ও প্রাক্তন কমিটির উপদেষ্টা প্রশান্ত কুমার চক্রবর্ত্তী কমিটি গঠন সংক্রান্ত খবরের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, শ্রী শ্রী জয়কালী মাতাবাড়ি মন্দিরের কমিটির মেয়াদ ২০২৪ সালের ২৮ আগষ্ট উত্তীর্ণ হয়। কমিটির মেয়াদ অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে এমনকি মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বৎসরের মধ্যেও নতুন কমিটি গঠিত হয়নি। শ্রী শ্রী জয়কালী মাতাবাড়ি মন্দিরের দান পত্রের শর্তানুসারে ‘কোন কারণে কমিটির অস্তিত্ব বিলুপ্ত হলে ও হিন্দু জন সাধারণের পক্ষে কেউ জয়কালী মাতার সেবা পূজার ভার গ্রহণ না করলে উক্ত দানকৃত সম্পত্তির সংরক্ষণ ও শ্রী শ্রী জয়কালী মাতাবাড়ি সেবা পূজার ভার দাতার ওয়ারিশগণের মধ্যে পূনরায় পর্যাপ্ত হবে’। সেই মোতাবেক ২০২৪ সালের ২৮ আগষ্ট এ কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার ৬ মাস পূর্বে এবং পরর্বতী প্রায় দুই বছরেও নতুন কমিটি গঠিত না হওয়ায় মন্দির পরিচালনার ভার দানপত্রের ক্ষমতাবলে দাতার ওয়ারিশের উপর বর্তানো রয়েছে। সেকারনে পূর্ববতী কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর দানপত্রের শর্তাবলী অনুসারে দাতার উত্তরসূরীর অধীন মন্দির পরিচালনার ভার থাকায় অন্য কারো সভা আহবান আইন সিদ্ধ নয়। এ বিষয় সমূহ শ্রী শ্রী জয়কালী মাতাবাড়ি মন্দির কমিটির প্রাক্তন সভাপতি রঞ্জন চৌধুরীকে গত ৬ এবং ২০ মে দুটি পৃথক পত্রের মাধ্যমে অবহিত করা হয়। এরপরও তিনি সাধারন সভা আহবান করে অবৈধ কমিটি গঠন করেছেন। এখানে আরো উল্লেখ করা প্রয়োজন কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর প্রাক্তন কমিটির কোন কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় দাতাদের উত্তরসূরীর পক্ষে আজীবন সদস্য প্রভাষ চক্রবর্তী এলাকার সকল হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে গত ২৪ ফেব্রুয়ারী একটি সাধারন সভা আহবান করেন। মন্দিরের সুষ্ঠু পরিচালনা ও তদারকি নিশ্চিত করা এবং বিগত কমিটির নানাবিধ অপর্কম রোধ করা ও মন্দিরের ব্যাংক তহবিল সুরক্ষার জন্য দানপত্রের শর্তানুসারে দাতার ওয়ারিশের পক্ষে কমিটি গঠনের এই পদক্ষেপ গ্রহন করা হলে তাতে বাধার সৃষ্টি করা হয়। ২৪ এপ্রিল দাতার ওয়ারিশানসহ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যক্তির্বগ মন্দিরে প্রবেশ করতে গেলে বহিরাগতদের সহায়তায় মন্দিরের সকল গেইটে তালাবদ্ধ করে অনাকাঙ্খিত পরিবেশ তৈরি করা হয়। দাতার ওয়ারিশ প্রশান্ত কুমার চক্রবর্ত্তী আরো জানান,দক্ষিন কালীবাড়িস্থ মন্দির দানের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল অত্র এলাকাবাসীসহ সকল সনাতনীদের একমাত্র ধর্মীয় উপাসনাস্থল হিসেবে নির্বিঘ্নে এখানে সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন ও অংশগ্রহন। সেই হিসাবে মন্দিরের দাতাদের দানপত্রের স্পিরিট তথা মৌলিক উদ্দেশ্যকে সমুন্নত রাখার জন্য সর্বপ্রকার বিভক্তি ও মতদ্বৈততা পরিহার করে অত্র এলাকার সকল সনাতনীদের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা আবশ্যক বলে দাতারা মনে করেন । কিন্তু এখানে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বিরাজমান থাকায় দাতার ওয়ারিশানসহ এই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যাক্তিবর্গ মন্দির পরিচালনায় সুষ্টু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করণে সোচ্চার হয়েছেন। এসব অনিয়মের মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক সদস্যগণের হালনাগাদ তালিকা প্রনয়ণ ও প্রকাশ করা হয়নি। বিগত কমিটির উপদেষ্টাদের সদস্য তালিকায় রাখা হলেও দাতার ওয়ারিশগনের কাউকে সদস্য তালিকায় রাখা হয়নি। কালীবাড়ি মাতা মন্দিরের দানকৃত ২১ শতাংশ ভূমির মধ্যে র্বতমানে মাত্র আনুমানিক সাড়ে ৮ শতাংশ ভূমি রয়েছে। এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণও চরমভাবে অবহেলিত।
জরুরী ভিত্তিতে মন্দিরের আয়-ব্যয়ের প্রকৃত হিসাব উদঘাটনের জন্য পেশাদার অডিট ফার্ম কর্তৃক অডিট করা,মন্দিরের বিদ্যমান ভূমি পরিমাপ ও সংরক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহণ,মন্দিরের অর্থ ব্যবস্হাপনায় স্বচ্ছতা আনয়ন, ব্যাংক ও তহবিল ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ,মন্দিরের অবকাঠামো উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ, মন্দিরের দাতার ওয়ারিশান শ্রীমতি অঞ্জলী চক্রবর্ত্তীর একমাত্র আয়ের উৎস হিসাবে বিবেচিত দোকানঘরটি ফেরৎ প্রদান, কমিটি কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমার হাল-নাগাদ তথ্য প্রকাশ ও মন্দিরের বেদখলকৃত সম্পত্তি পুনরুদ্ধার এবং অতি জরুরী ভিত্তিতে মন্দির পরিচালনার জন্য যুগপযোগী একটি অনুমোদিত গঠনতন্ত্র প্রণয়ন এবং ভবিষ্যতে মন্দিরের কার্যক্রম যেন সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে পরিচালিত হয় অর্থাৎ মন্দির ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনয়ণে দাতা ওয়ারিশগণ সক্রিয় থাকা অবস্থায় তাদের পাশ কাটিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে একটি কমিটি ঘোষনা করা হয়। আমরা অবৈধ কমিটি গঠনের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা প্রকাশ করছি।
Posted ৬:৩৯ পিএম | রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
dainiksarod | Pijush Kanti Acharya